ইবিতে নিয়োগ ঠেকাতে বাসা থেকে বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণ ছাত্রদল আহ্বায়কের
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
ইবি প্রতিনিধি:

নিয়োগ বোর্ড আটকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এনিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আনুমানিক বেলা ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তাকে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়।
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি বাইকে তুলে নিতে দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, আজকে বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড ছিল। বিভাগের সভাপতি এ উদ্দেশ্যে সকাল আটটার দিকে তার ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এদিকে সকাল ১০ টায় নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড এর সময় নির্ধারিত থাকলেও ঘন্টাখানেক পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। এই বোর্ডে ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপহরণকৃত ওই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি।
শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিলো। তিনি অসুস্থ থাকাতে প্রথমে যেতে পারবেন না বলে ওনাদের বলেন। কিন্তু ওনাকে বারবার কল দেওয়াতে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ে। তিনি যখন বাসার নিচে নামে তখন একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শুনি। তখন ভাবছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়েছে তাকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যিনি কল দিছিলেন তিনি গাড়ি পাঠাচ্ছেন এমন বলেন। কিন্তু এর প্রায় আধাঘন্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক হাসমত নামের একজন কল দিয়ে তার অবস্থান জানতে চান। তিনি বলেন, তিনি নাকি তাকে (জুয়েল) নিতে আসছেন। তখন আমি তাকে জানাই তিনিতো চলে গেছেন। এরপর থেকে তার নিজস্ব ও অফিসের মোবাইল নম্বরে কল দিচ্ছি কিন্তু তার ফোন বন্ধ বলতেছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা তাকে অপহরণ করবো কি জন্য। সে কোথায় আছে জানি না। আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না৷ এসময় ক্যাম্পাসে এসে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।’
এদিকে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক ভাইয়ের আমার অবস্থান সুস্পষ্ট। আজ সকালে THM বিভাগের সন্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে সকালে ফোন দিয়েছিল এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোটভাই। উল্লেখ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রেজিস্টার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে হুমকি ধামকি দিয়েছে এবং গতপরশু সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোর পূর্বক মারধর হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং করেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ৪ জন শিক্ষককে প্রাননাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোর পূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ প্রক্টর তাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
এজন্য নিরাপত্তার সার্থে জুয়েল আমার কাছে ছিলো।জুয়েল এই মূহুর্তে তাঁর নিজ বাসা ঝিনাইদহে অবস্থান করছে।'
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে তিনি কোনোভাবেই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন না৷
আমার বার্তা/সব্বির আহমেদ/এমই
