দিনাজপুরে ৫৪টি বোরো ধানের জাতের ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী

কৃষকের মাঠেই ব্রির নিয়ন্ত্রিত গবেষণা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  বিশেষ প্রতিনিধি:

এলএসটিডি (নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন) প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরে কৃষকের মাঠে ব্রি উদ্ভাবিত বোরো মৌসুমের ৫৪টি ধানের জাতের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।

এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় নবস্থাপিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রদর্শনীটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে কৃষকের মাঠই হয়ে উঠেছে ব্রির একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণা মাঠ। এর মাধ্যমে কৃষকরা একই স্থানে বিভিন্ন ধানের জাতের রোপণ পদ্ধতি, গাছের বৃদ্ধি, জীবনকাল এবং সম্ভাব্য ফলন সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত উপযোগিতা, কৃষকের চাহিদা, ফলন সক্ষমতা, বাজারমূল্য এবং জীবনকাল বিবেচনায় রেখে কৃষক যেন নিজেই উপযুক্ত জাত নির্বাচন করতে পারেন—এই লক্ষ্যেই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা নিজেদের জমি ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাত সহজে নির্বাচন করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এদিকে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থী ও আগ্রহী দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। মাঠে এসে বিভিন্ন জাতের ধানের তুলনামূলক চিত্র প্রত্যক্ষ করে তারা সন্তোষ ও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কৃষকের মাঠে বাস্তবভিত্তিক এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা শুধু ফলন সম্পর্কে নয়, বরং একটি ধানের জাতের সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন। এতে তারা নিজেরাই উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন এবং ব্রি উদ্ভাবিত জাতের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হচ্ছেন।”
ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের প্রধান ড. সেলিমা জাহান বলেন, “এ ধরনের মাঠভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহ কৃষক পর্যায়ে দ্রুত পরিচিতি লাভ করবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর অঞ্চলে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ কৃষক-কেন্দ্রিক গবেষণা ও প্রযুক্তি জনপ্রিয়করণের একটি সফল দৃষ্টান্ত, যা টেকসই ধান উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আমার বার্তা/এমই