পাশাপাশি কবরে শায়িত সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাগেরহাটে জানাজা শেষে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। এর আগে প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর বাবা শেখ রুহুল আমিন।  

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়। স্বজনদের আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না মেলায় মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিকট আত্মীয়সহ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়। এ সময় প্রায় পাঁচ মিনিট দূর থেকেই স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম।

স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছানো হয়। সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন ছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এবং অল্প সময় পর আবার বাইরে তাদের বের করে দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিশুটির মরদেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।

মৃত স্বর্ণালীর বাবা শেখ রুহুল আমিন বলেন, আমার মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে সাদ্দামের সাথে দেখা করতে যশোর কারাগারে উদ্দেশ্যে বিকেল ৫টায় বের হই। যশোর  থেকে  আসতে আসতে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা বেজে গেছে। তাই ১১টা ২০ মিনিটে  জানাজা শেষ করি এবং রাত  ১২টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় ।  

মৃতের স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

আমার বার্তা/এল/এমই