দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নোয়াখালীতে জামায়াতের আমির

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, এই নোয়াখালী জেলার আলেম-ওলামাগণ দ্বীনি ইলমের খেদমত কেবল নোয়াখালীতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। যাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া-যেখানেই যাবেন, সেখানেই জানতে পারবেন তাদের পূর্বপুরুষদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছিলেন নোয়াখালীর আলেম-ওলামারা।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সেই গর্বিত এলাকার মানুষ। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি—এইসব আলেম-ওলামাকে মাদ্রাসা ও মসজিদের ওসিলায় দুনিয়া ও আখিরাতে আরও মর্যাদা বাড়িয়ে দিন। দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ নেই, যেখানে নোয়াখালীর মানুষ পাওয়া যাবে না। এটি আপনাদের কৃতিত্ব। এই এলাকার মানুষ লড়াকু মানুষ।

শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে, তাদের হাতে দেশ গেলে ভালোবাসার একটি দেশ তৈরি করা সম্ভব। মানুষ তা বুঝতে পেরেছে। তাই সারা বাংলায় এখন বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। শুধু নোয়াখালী নয়, সারা বাংলায় আমি যেখানে যাচ্ছি, মানুষের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, সেই যুবসমাজ ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বুঝতে পেরেছে—জুলাই চেতনার আকাঙ্ক্ষা কারা বাস্তবায়ন করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দরদের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পে কমিশনকে বলব— যথাযথ সুপারিশ আমাদের কাছে দিন, যাতে একজন মানুষ সরকারি চাকরি করার পর দ্বিতীয় কোনো রুজির সন্ধান করতে না হয় এবং টেবিলের নিচে হাত দিতে না হয়। এরপর যারা সততার পথ ছেড়ে দেবেন, সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ১১ দলের যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও রয়েছে। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই ১১ দলের প্রতীক। ১১ দলের কর্মীদের কোনো চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দুই হাত তুলে তা নিয়ে যেতে চাই। মিলেমিশে লড়াই করে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভোটগুলো তুলে আনতে হবে।

নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী দল গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহ, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।