প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হলেন আফরোজা খানম রিতা

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বিপুল ভোটে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে আফরোজা খানম রিতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মন্ত্রীসভায় ডাক পাওয়ায় মানিকগঞ্জে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আনন্দিত-উচ্ছ্বাসিত। জেলাবাসীও আনন্দিত।

‎দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আফরোজা খানম বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিাজের চেয়ারম্যান। তার স্বামী মইনুল ইসলাম মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিাজের ভাইসচেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎আফরোজা খানমের বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীও ছিলেন। মূলত বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন আফরোজা খানম। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাবা হারুণার রশিদ খানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।

এরপর জেলা ও রাজধানী ঢাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অংশ নেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর ও সিঙ্গাইর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে ৪৫ কাউন্সিলের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪২ ভোট পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আফরোজা খানমকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির সাত সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি।

বিগত স্বৈরাচার সরকার পতন আন্দোলনের কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন আফরোজা খানম। তিনিসহ দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে জেলাসহ ঢাকায়ও সমানতালে অংশ নেন। মামলা ও হামলায় জর্জরিত দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা করেন। এসব কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ নানাভাবে হয়রানি করে। তবুও দমে যাননি এই নেত্রী। কঠিন ও কঠোর সময়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মূলত তার নেতৃত্বেই এ জেলায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

আফরোজা খানমের মন্ত্রী হওয়ায় আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ জেলাবাসী। বিএপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী হয়েছেন। এই খবর শুধু দলের নেতা-কর্মীই নন, পুরো জেলাবাসীই আনন্দিত ও গর্বিত। জেলার উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। 

তিনি আরও বলেন, ঢাকার খুব কাছের জেলা হয়েও বিগত সময়ে মানিকগঞ্জে উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় অবহেলিত এই জেলার উন্নয়নসহ সারাদেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছি।

প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। তারাসহ এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


আমার বার্তা/এমই