নবীনগরে আহমেদ হাসপাতালে  মৃত্যুর ঘটনায় ১১ লাখে সমাধান

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে রাকিবা (২০) প্রসূতী মৃত্যুর ঘটনা টি শালিসি সভায় ১১ লাখে সমাধান হয়েছে।  ৯ এপ্রিল সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়া এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চালু করা হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

মর্মান্তিক বিষয় হলো,টাকা দিলেই কি হাসপাতালের দায় সারা, এ ঘটনায়  রাকিবার পরিবার এখনও নবীনগর থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ করেনি। রাকিবার বাবা, শফিকুল বলেন, আমরা গরিব, তাই তাদের সঙ্গে লড়তে পারব না। আমাদের মেয়ে ফিরে আসবে না, আল্লাহই তাদের বিচার করবেন। এক দিকে তদন্ত কমিটি তদন্ত অন্য দিকে দুই পক্ষের সম্মেলিত ভাবে একটি শালিসী সভা হয়, শালিসী সভার সভাপতি মো. খবির উদ্দিন মাস্টার জানান, 'শালিসী সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে ৮ লাখ টাকা ওই মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে 'ফিক্সড ডিপোজিট' করা হবে।

বাকী ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে সমান দেড় লাখ করে বুঝিযে দেয়া হবে। তবে প্রসূতির স্বামীর বাড়ির লোকজন জরিমানার দেড় লাখ টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে তিনি জানান।
তবে এই জরিমানার এই ১১ লাখ টাকা নিয়ে কোন ধরণের 'নয়ছয়' করার ন্যূনতম  কোন সুযোগ নেই বলেও তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান।

স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন, যদি তদন্ত ও বিচারের আগেই হাসপাতাল কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা ও ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এ বিষয় এ আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের কোন মালিকপক্ষ কে পাওয়া যায় নি, কথা বলতে নারাজ কর্মরত কর্মকর্তারা ও। এ বিষয় এ নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন এই বিষয় টি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করবেন না যেহেতু তদন্ত কমিটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যদি প্রসূতির পরিবার আইনের সহযোগিতা চান আমরা সহযোগিতা করবো।

এ বিষয় এ তদন্ত কমিটি জানান আমরা সরজমিনে দেখছি দু'পক্ষের সাথে কথা বলছি তদন্তে রিপোর্ট জেলা সিভিল সার্জন এ জমা করবো। উল্লেখ্য গত ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয় রাকিবা আক্তার (২০)। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।

তবে অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই রাকিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের যথাযথ তথ্য না দিয়ে তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করেন। রাকিবার মা, রেহেনা আক্তার, জানান, আমার মেয়েকে গাড়িতে তোলার সময়ই সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখন বুঝি, অপারেশনের পরই আমার মেয়ে মারা গেছে। এ ঘটনা টি সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।