কিশোর নাইমকে ‘ইয়াবা চুরির’ অপবাদে হত্যা: গণপিটুনিতে নিহত সন্ত্রাসী ইরান
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরান (৫০) নামের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটের খীল এলাকায় এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
নিহত ইরান ওই এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা ও মাদক ব্যবসাসহ অন্তত চারটি মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই একশ পিস ইয়াবা চুরির অপবাদ দিয়ে ১৭ বছরের কিশোর নাইমকে প্রকাশ্যে অমানবিক নির্যাতন করেন ইরান। এর পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যান ওই কিশোর। এ ঘটনায় নাইমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নাইমের মৃত্যুর পর গত শনিবার রাতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় জনতা ও এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইরানকে প্রতিহত করার শপথ নেন। পরে রাত নয়টার দিকে এলাকাবাসী তাকে খুঁজতে শুরু করে এবং তার একটি সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।
একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি গোয়ালঘর থেকে পালানোর সময় জনরোষের মুখে পড়েন ইরান। উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ইরানের মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও উৎসুক জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ইরানের পাশাপাশি তার তিন ভাই ও এক বোনের বসতঘরও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনে তিনটি মোটরসাইকেল, দুটি সিএনজি অটোরিকশা, দুটি ভ্যান ও দুটি কৃষিকাজের ট্রাক্টর ভস্মীভূত হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিহত ইরানের স্ত্রী খালেদা আক্তার ও মেজো ছেলে রিফাত জানান, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা ও নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নাইমকে মারধরের ঘটনাও সত্য।
তবে রিফাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবা অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় না এনে পুলিশ গত তিন দিনেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করল না? পাশাপাশি তারা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোল্লা আলমগীর জানান, নাইম হত্যার পর থেকেই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে রাতে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে তিনি নিহত হন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ইরানের দুই সহযোগীকে আটক করেছে। তারা হলেন আলতাফ (৪৫) ও বাদশা (৫০)। এর মধ্যে আলতাফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বাদশাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই
