নাফ নদী পেরিয়ে ডুবন্ত ক্যারিয়ারে ইয়াবা পাচার, বিজিবির অভিযানে আটক -৩

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  মোহাম্মদ তোফাইল

কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক তিনটি অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত কাঠের তৈরি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, নয়টি কপিকল, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে মাচাংঘরের পাশে চার থেকে পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেলাল উদ্দিন (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২৬) নামে দুজনকে আটক করে বিজিবি।

পরে ঘটনাস্থল ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মোবাইল ফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ার টানার জন্য আনুমানিক দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অভিনব কৌশলে ইয়াবা পাচার

বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ার ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে একসঙ্গে আনুমানিক ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে নাফ নদী পার করে পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ইয়াবা নিয়ে আসতে পারে চোরাকারবারিরা।

ক্যারিয়ারটির সঙ্গে একজন ব্যক্তি পানিতে মাছ ধরার ছলে চলাচল করে বলে বিজিবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এড়াতে চোরাকারবারিরা প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এ ধরনের নতুন কৌশল ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

বালুখালীতে দুই লাখ ইয়াবাসহ আটক একজন এদিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে বালুখালী বিওপির একটি নিয়মিত বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসপি পোস্টসংলগ্ন সোহেলের ঘের এলাকায় মিয়ানমার দিক থেকে এক ব্যক্তির প্রবেশের সময় তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি মো. রকি আহমেদ (২৬)। এ সময় তার কাছ থেকে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়ন মাদকবিরোধী অভিযানে আনুমানিক ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ২২৮ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিজিবির তৎপরতা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ায় মাদক চোরাকারবারিরা পাচারের জন্য নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় পানির নিচে রশির সাহায্যে নৌকা টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, চোরাকারবারিরা যত অভিনব কৌশলই গ্রহণ করুক না কেন, বিজিবির আন্তরিকতা, দেশপ্রেম, পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।