আগামী সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে নিতে আগামী সরকারকে শিল্প ও ব্যবসা সচল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসব চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবিলা করা গেলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টার বলেন, আগামী সরকারের প্রতি মূল পরামর্শ হলো নতুন করে সবকিছু শুরু না করে চলমান সংস্কারগুলোকে সংহত করা। ভালো কাজগুলো ধরে রাখুন, সমন্বয় বাড়ান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্ত করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে ‘অ্যাক্টিভেট’ করা। ব্যবসা ও শিল্প খাত সচল না হলে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে না।

বাংলাদেশের শিল্প ভিত্তি এখনো দুর্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি এখনো সীমিত কয়েকটি রপ্তানি খাতের ওপর নির্ভরশীল। হংকং বা সিঙ্গাপুরের মতো মডেলে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না, বরং দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) শক্তিশালী করাই বাস্তবসম্মত পথ।

মূল্যস্ফীতি বহুমাত্রিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো একটি বড় চাপ। শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরবরাহব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি মূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনা—সবকিছু মিলিয়েই মূল্যস্ফীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নীতির বিষয়।

ব্যাংকিং খাতের সংকট এখনো কাটেনি জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতকে সবচেয়ে জটিল ও কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থ উপদেষ্টা। তার ভাষায়, খেলাপি ঋণ, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও আস্থাহীনতার কারণে এখনো ব্যাংক খাত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আমানতের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে, তবে ক্রেডিট সাপ্লাই এখনও কম। মানুষের কনফিডেন্স পুরোপুরি ফেরেনি।

পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট উন্নয়ন জরুরি জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট উন্নয়ন অপরিহার্য। ব্যবসা-বাণিজ্য শুধু ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করে টেকসই হতে পারে না। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা, আদালতকেন্দ্রিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার কারণে সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। 

এনবিআর ও রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যকর করাকে আগামী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থ উপদেষ্টা। যদিও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে নীতিগত সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। কর নীতি নিয়ে একটি গাইডলাইন রিপোর্ট রেখে যাওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সরকার ব্যবহার করতে পারবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্প উৎস জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, অফশোর ড্রিলিং এবং বিকল্প জ্বালানি—বিশেষ করে সৌর শক্তি উন্নয়নে আরও জোর দিতে হবে। সৌর জ্বালানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

অর্থ পাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, কোন দেশে অর্থ পাচার করেছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বেজটা তৈরি হয়েছে। এখন দরকার সরকারি সংস্থা ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয়।


আমার বার্তা/এমই