যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক পাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১-এর আওতায় ৬০টি অর্থনীতি, যা বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসির সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কহার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগে সেকশন ১২২-এর আওতায় কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এটি বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে প্রযোজ্য হবে। বিশ্বের ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। ফলে এসব দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও জোরালো হবে।

এছাড়া ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছরের ট্যারিফ-রেট কোটার (টিআরকিউ) একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ওপর সেকশন ৩০১-এর অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ করা হতে পারে।

এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতিপালন এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।