ঢাকা মেট্রোর সঙ্গে নতুন পার্টনারশিপে শক্তিশালীভাবে ফিরছে জোবাইক

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী নগরীর তীব্র যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ঢাকা মেট্রো রেলের (এমআরটি লাইন-৬) ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু ট্রেন থেকে নামার পর অধিকাংশ যাত্রীকে পড়তে হয় একটি সাধারণ সমস্যায়—মেট্রো স্টেশন থেকে মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর সহজ কোনো উপায় থাকে না। 

এতদিন পায়ে হাঁটা বা রিকশার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। তবে এবার সেই দুর্ভোগ কমাতে যুক্ত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এক নতুন পরিবহন সেবা। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অ্যাপ-ভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্‌ম ‘জোবাইক’। 

এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬-এর সবকটি মেট্রো স্টেশনে পাওয়া যাবে বাইসাইকেল সেবা। যা একই সঙ্গে মেট্রো স্টেশনে অ্যাপ-ভিত্তিক বাইসাইকেল সেবা চালুর বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। 

ডিএমটিসিএলের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে সফলভাবে কার্যাদেশ পেয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

সেবাটির প্রথম ধাপে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার এবং উত্তরা দক্ষিণ—এই তিনটি স্টেশনে ১৫০ থেকে ৩০০টি প্যাডেল বাইসাইকেল নিয়ে একটি ছয় মাসের পাইলট প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে জোবাইক। 

এর ফলে উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউএপি) ও উত্তরা রূপায়ণ সিটির বাসিন্দারা, ঢাকা মেট্রো ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি) ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। 

যাত্রীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে পার্কিং হাবের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং ছয় মাসের পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর লাইন-৬-এর অন্যান্য স্টেশনেও সেবাটি সম্প্রসারিত করা হবে।

সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সেবাটি অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী নিয়মে সাজানো হয়েছে। যেকোনো যাত্রী মেট্রো স্টেশনের নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা কিংবা কাছের হাব পার্কিং স্টেশন থেকে জোবাইক অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বাইসাইকেল আনলক করতে পারবেন। 

গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাইসাইকেলটি যেকোনো নির্ধারিত জোবাইক পার্কিং স্থানে রেখে দেওয়া যাবে। প্রতিটি রাইডের জন্য আনলকিং ফি বাবদ ২ টাকা এবং প্রতি মিনিটের জন্য ১ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে।

জোবাইকের জন্য এ যৌথ উদ্যোগ একটি বড় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ২০১৮ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জোবাইক। তবে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয় এবং পরবর্তী সময়ে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে প্রতিষ্ঠানটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। 

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ই-বাইক চালুর মাধ্যমে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে জোবাইক। আর এবার ডিএমটিসিএলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের রাজধানীতে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবচেয়ে বড় একটি সাফল্য।

জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষ মেট্রো রেলে যাতায়াত করেন, যা একটি বিশাল সংখ্যা। কিন্তু স্টেশন থেকে বের হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ফার্স্ট-মাইল ও লাস্ট-মাইল যাতায়াতে রিকশা ছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। জোবাইক এখানে স্বাস্থ্যকর, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী একটি বিকল্প পরিবহন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীরা এই বাইসাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন।’ 

ঢাকার নগর পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরে এখনো পর্যাপ্ত সাইকেল লেন নেই। একটি বাইসাইকেল-বান্ধব নগরী গড়ে তোলার পাশাপাশি যানজট ও পরিবেশ দূষণের মতো প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা সরকারের কাছে ডেডিকেটেড সাইকেল লেন তৈরির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

ডিএমটিসিএল ও জোবাইকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ওসমান গনি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রাকিবুল হাসান। 

অন্যদিকে জোবাইকের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা, বিজনেস ডিরেক্টর শরীফ খান এবং হেড অফ অপারেশনস শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জোবাইক সম্পর্কে : জোবাইক হলো বাংলাদেশের একটি মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক মাইক্রো-মোবিলিটি সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। যা শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছে।


আমার বার্তা/এমই