বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ থাকতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৬:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আগামী অর্থবছরের জন্য শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ অর্থ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব সরবরাহের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মাত্র তিন-চার মাসের মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সে কারণে আপাতত পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম ২০২৭ সালে চালু করা হবে এবং আরও বড় পরিসরের পরিবর্তন ২০২৮ সাল থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রীড়া বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টি চালু হবে প্রাথমিক স্তর থেকে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের কাঠামোর মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পাঠদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই