২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে আরও ৪ বই: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনটি ও পরের বছর আরও একটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতেও যুক্ত হবে ‘খেলাধুলা’ বিষয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তাড়াহুড়ো করে চতুর্থ শ্রেণিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হলেও আগামীতে প্রথম শ্রেণি থেকেই এটি চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য নতুন করে চারটি বই পরিমার্জন ও সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।

শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।

কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের জটিল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে ‘খেলায় খেলায় শিক্ষা’র গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি চীন ও জাপান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশের কারিকুলামে নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়েও কোন খেলাধুলা বা খেলনার মাধ্যমে কোন বিষয় শেখানো হবে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়েও সরকার ভাবছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়িত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকরা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উল্লেখ করে তাদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

:
আমার বার্তা/এমই