শিল্পী সমিতির ভোটে আলোচনায় মুক্তি

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  মোঃ আবু সাঈদ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুল আলোচিত নির্বাচন আগামী ৩ জুলাই, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ‘আরমান-মুক্তি’ পরিষদের হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। নির্বাচনকে ঘিরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পীদের মধ্যে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও মুক্তির নাম বিশেষভাবে উঠে আসছে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিল্পীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, শিল্পী সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গত কয়েক বছরে নিজের সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন মুক্তি। সমিতির সদস্যদের নানা সমস্যা ও প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকার কারণে সাধারণ শিল্পীদের মধ্যেও তিনি আস্থার একটি জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে তার প্রার্থিতা ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই।

চলচ্চিত্রের প্রবীণ অভিনেত্রী শবনম মুক্তির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, তিনি মুক্তিকে একজন ভদ্র, মার্জিত ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে জানেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তির মা কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বাংলা চলচ্চিত্রের একজন সম্মানিত শিল্পী। এমন একটি পরিবার থেকে আসা একজন মানুষ শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে এলে তা সংগঠনের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভোটারদের যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিনেত্রী রাশেদা চৌধুরীও মুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তিনি মুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং তার ব্যক্তিত্ব ও কাজ সম্পর্কে অবগত। তার ভাষ্য, একজন গুণী শিল্পীর উত্তরসূরি হিসেবে মুক্তি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তবে নির্বাচনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের হাতেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবীণ অভিনেত্রী ডলি জহুরও মুক্তির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবে। নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া হলেও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই তার প্রত্যাশা।

এদিকে চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, শিল্পী সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ ও কর্মক্ষম নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় অনেকেই রুমানা ইসলাম মুক্তিকে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, নির্বাচিত হলে শিল্পীদের স্বার্থরক্ষা, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং সমিতির মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।

আগামীকালের ভোটের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটারদের আস্থা শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যায়।