২৫ বছর বয়সেই সাফল্যের শীর্ষে

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, দুই মাসে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। আর তিনটি সিনেমাই হয়েছে সফল। সিনেমাগুলোর সার্বিক আয় ছাড়িয়েছে ৯০০ কোটি রুপিরও বেশি! একটি সিনেমা তো গড়েছে রেকর্ড।

এমন অবিশ্বাস্য সাফল্য যার মাথার তাজ হয়ে উঠল, তিনি মমিতা বাইজু। বলা চলে, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার নতুন টেক্কা। যেন তিনি থাকলেই সিনেমা সুপারহিট হয়ে যায়। শুধু সাম্প্রতিক তিন সিনেমাই নয়, মমিতার ক্যারিয়ারে সফল সিনেমার সংখ্যা অনেক। অথচ বয়স তার মাত্র ২৫!

২৩ জুলাই মুক্তি পায় এইচ বিনোদের তামিল সিনেমা ‘জন নয়াগণ’। থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা এটি। যদিও মুক্তির বহু আগেই সিনেমাটি অন্তর্জালে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তারপরও বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসয়া করেছে এটি। বিশ্বব্যাপী ৩২০ কোটি রুপিরও বেশি আয় করেছে সিনেমাটি। এই সিনেমায় বিজয় ও পূজা হেগড়েদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন মমিতা বাইজু।

এরপর ১৪ আগস্ট মুক্তি পায় ভেঙ্কি আতলুরির তামিল সিনেমা ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সনস’। রোম্যান্টিক-ফ্যামিলি ড্রামাটি বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়। বিশ্বব্যাপী এর আয় ছাড়িয়েছে ২৫০ কোটি রুপি। সিনেমায় সুরিয়ার সঙ্গে মমিতার অসম বয়সের প্রেম-রসায়নে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক।

এর এক সপ্তাহ পর ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে আসে মমিতার আরেক সিনেমা ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’। গিরিশ এ. ডি. নির্মিত এই মালয়ালম সিনেমা রীতিমতো ইতিহাস গড়েছে। ৩৩০ কোটি রুপির মতো আয় করেছে বক্স অফিসে। ফলে এটিই এখন মালয়ালম ইন্ডাস্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা। রোম্যান্টিক-কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় নিভিন পলির সঙ্গে মমিতার যুগলবন্দী দারুণ পছন্দ করেছে দর্শক-সমালোচকরা।

একের পর এক সফল সিনেমা দিয়ে মমিতা এখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয়তা তারকায় পরিণত হয়েছেন। মিষ্টি হাসি, চঞ্চল স্বভাবে তিনি যেন পাশের বাড়ির সুন্দরী মেয়েটি; যাকে পাড়ার ছেলেরা মুগ্ধতার চোখে দেখে।

মমিতার জন্ম ২০০১ সালের ২২ জুন কেরালার কোট্টায়াম জেলায় কিডাঙ্গুরে। বাবা চিকিৎসক। পরিবারে বাবা-মায়ের সঙ্গে রয়েছে তার বড় ভাই মিথুন। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে কোচির স্যাক্রেড হার্ট কলেজে সাইকোলজিতে স্নাতক করছিলেন মমিতা। তবে তৃতীয় বর্ষে গিয়ে ছিটকে পড়েন, পাঠে অনিয়মিত হওয়ার কারণে।

১৫ বছর বয়সে মমিতার অভিনয়ে অভিষেক। শুরুটা মালয়ালম সিনেমা ‘পাভাদা’ দিয়ে। এখানে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। পরে আরও কয়েকটি সিনেমায় স্বল্প দৈর্ঘ্য ও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন মমিতা। ‘খো খো’ (২০২২) সিনেমায় অভিনয় করে তিনি প্রথমবার নজর কাড়েন, জিতে নেন পার্শ্ব চরিত্রের কেরালা ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড।

২০২৪-এ মোড় ঘুরে যায় মমিতার। প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন ‘প্রেমালু’ সিনেমায়। রোম্যান্টিক সিনেমাটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। গিরিশ এ. ডি. নির্মিত সিনেমাটির বাজেট মাত্র ৯ কোটি রুপি; আর বক্স অফিসে আয় করেছিল ১৩৬ কোটি রুপি!

একই বছর ‘রেবেল’ দিয়ে তামিল সিনেমায়ও অভিষেক ঘটে মমিতার। এরপর গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পায় তামিল সিনেমা ‘ড্যুড’। বাজেট মোটে ৩০ কোটি রুপি। অথচ এই সিনেমাও আয় করেছিল ১১০ কোটি রুপির বেশি। মাঝে কেবল একটি সিনেমা মন্দ গেছে মমিতার। এ বছরের এপ্রিলে আসে ‘কারা’। ধানুশের সঙ্গে সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য পায়নি।

তবে ক্যালেন্ডারের কয়েকটা পাতা ওল্টাতেই স্বপ্নের মতো পালটে গেল মমিতার ক্যারিয়ার। একের পর এক টানা তিন সফল সিনেমা দিয়ে এখন তিনি স্বর্ণালী সময় পার করছেন।