৪০০০ বছর পর আবিষ্কৃত হলো হারিয়ে যাওয়া নীল নদের শাখা

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

প্রায় ৪০০০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া নীল নদের শাখা আবিষ্কার করার সুখবর দিয়েছেন একদল গবেষক। বহুকাল থেকেই মিসর ও পিরামিড নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে পিরামিড তৈরির রহস্য উদঘাটন করা নিয়ে বেশি আগ্রহ সবার।

সাম্প্রতিক এক ভূপ্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সেই চিত্র উঠে এসেছে, প্রাচীন মিসরের বিশাল কারনাক মন্দির কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছিল একটি প্রাকৃতিক নদী–সোপানের ওপর, যা একসময় চারদিক থেকে জলধারা ও খালে ঘেরা ছিল। এই ভৌগোলিক বাস্তবতা মিসরীয় সৃষ্টিতত্ত্বের একটি ধারণার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে বলা হয়, আদিম জলরাশি থেকে একটি পবিত্র টিলা জেগে উঠেছিল।

একই সঙ্গে এই গবেষণা এটিও স্পষ্ট করেছে, ঠিক কোন সময় থেকে কারনাক এলাকায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব হয়ে ওঠে। প্রকৃতি ও বিশ্বাস কীভাবে একসঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে, তারই একটি শান্ত ও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায় এই গবেষণা থেকে। খনন করা নমুনায় দেখা গেছে, কারনাকের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকেই নীল নদের পুরোনো শাখা বা গতিপথের চিহ্ন রয়েছে। 

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ছোট ছোট কিছু নালা মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতর দিয়েও প্রবাহিত হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু অংশ পলি জমে প্রাকৃতিকভাবে ভরাট হয়ে যায়, আবার কিছু জলধারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সক্রিয় ছিল। এতে বোঝা যায়, কারনাকের ভূপ্রকৃতি কখনোই স্থির ছিল না। বরং নীল নদের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেটিও রূপ বদলেছে।

এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো, কারনাক মন্দিরের পূর্ব দিকে নীল নদের একটি প্রশস্ত শাখার অস্তিত্ব। গবেষকদের ধারণা, একসময় এই শাখার প্রস্থ কয়েকশ মিটার পর্যন্ত ছিল। পরে নীল নদ ধীরে ধীরে আরও পূর্ব দিকে সরে যায়। ধ্রুপদি যুগের শেষ দিকে এই জলধারা পলি জমে প্লাবণভূমিতে পরিণত হয়। 

এই গবেষণা কারনাকের ইতিহাসকে আমূল বদলে না দিলেও এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পলিমাটির স্তর, প্রাচীন মৃৎপাত্র এবং আধুনিক কালনির্ণয় পদ্ধতি একত্রে ব্যবহার করে আগের গবেষণার অনেক ফাঁক পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

এর ফলে এমন এক গতিশীল ভূপ্রকৃতির চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে নীল নদের গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল সব মন্দির। কারনাক এখন আর কেবল পাথরের তৈরি স্থির কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং এটি সময়ের পরিক্রমায় পানি, প্রকৃতি আর মানুষের ইচ্ছায় গড়ে ওঠা এক জীবন্ত প্লাবনভূমির অংশ।

নীল নদের প্রবহমান ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে এখানে জন্ম নিয়েছে এক অনন্য ও গতিশীল ভূপ্রকৃতি। নদীর গতিপথের সাথে পাল্লা দিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল মন্দিরগুলো আজ আর নিছক পাথুরে স্তম্ভ নয়; বরং প্রকৃতি আর সময়ের বিবর্তনে গড়ে ওঠা এক প্রাণবন্ত প্লাবনভূমির অংশ। এটি এখন এক জীবন্ত ইতিহাসের নাম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আমার বার্তা/জেইচ