জ্বালানি সংকট: এবার স্কুলে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ মোদির
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১২:২১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের নাগরিকদের পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সোমবার হায়দরাবাদে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মোদি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্কুলগুলো সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবা উচিত।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগ ও দূরবর্তী কর্মসংস্থান (রিমোট ওয়ার্ক) অনেক সহজ ও সুলভ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সংরক্ষণে সহায়তার লক্ষ্যে তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ এবং ভার্চ্যুয়াল মিটিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্কুলগুলোর কাছেও আবেদন করব, তারা যেন কিছু সময়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।’
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নাগরিকদের মেট্রো রেল, বৈদ্যুতিক যান, গণপরিবহন ও কারপুলিং (একই গাড়িতে কয়েকজন মিলে যাতায়াত) ব্যবহারের হার বাড়ানোর জন্যও উৎসাহিত করেন মোদি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভারত যখন চাপের মুখে রয়েছে, ঠিক তখনই মোদি এমন মন্তব্য করলেন। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার খবর আসার পর তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, প্রায় ৬০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অধিকাংশ এলপিজি সরবরাহ।
এদিকে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দামেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৪ দশমিক ০৪ মার্কিন ডলার বা ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলার বা ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৮৫ ডলার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা সীমিত করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে আপাতত বিদেশ ভ্রমণ কমিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
আমার বার্তা/জেএইচ
