চীনকে ঠেকাতে এআই নীতিমালা স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৪:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনামূলক কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা নির্বাহী আদেশে বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্বাক্ষর করার কথা ছিল ট্রাম্পের। বিষয়টি ঘিরে শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত আদেশের কিছু অংশ তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তার ভাষায়, ‘আমরা চীনের চেয়ে এগিয়ে আছি। অন্য সবার চেয়েও এগিয়ে। আমি এমন কিছু করতে চাই না যা এই অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নীতিমালায় এআই কোম্পানিগুলোর জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা ছিল। এর আওতায় উন্নত এআই মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন ব্যাংক ও হাসপাতালের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে পারত।
তবে শেষ পর্যন্ত কোন অংশে আপত্তি ছিল, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে নতুন এআই মডেল বাজারে আনার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে উদ্ভাবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য যদি কোম্পানিগুলোকে মডেলের আচরণ পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তা ব্যবসায়িকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সএআই প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক, মার্ক জুকারবার্গ এবং ট্রাম্পের সাবেক এআই উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এরপরই আদেশটি স্থগিত করা হয় বলে দাবি করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আদেশে কী ছিল, সেটিই তিনি জানতেন না। ট্রাম্প সই না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তার সঙ্গে কথা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর কারণে ভবিষ্যতে সাইবার হামলা আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই এ খাতে নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর বিপরীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় এআই ও প্রযুক্তি খাতে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
