যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই লেবাননে ইসরাইলের হামলা, নিহত ২৯
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিনের মধ্যেই নতুন করে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বের বেকা উপত্যকাজুড়ে চালানো এসব হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার নাবাতিহ জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার জেলার বারিশ গ্রামে একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া সিডনের নিকটবর্তী একটি গ্রামে হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। টায়ার জেলার শাহুর এলাকায় একজন এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কফর রুম্মান-নাবাতিহ সড়কে চালানো এক ইসরাইলি হামলায় তাদের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, এ ধরনের আক্রমণ দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন তাদের বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর রাতভর হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাবাতিহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অবস্থান দখলের উদ্দেশ্যে ইসরাইলি বাহিনী অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের যোদ্ধারা সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর মতে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি উপস্থিতি বজায় থাকলে কোনো যুদ্ধবিরতিই কার্যকর অর্থ বহন করবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরাইলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওই সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কোনো সমঝোতা মানতে ইসরাইল বাধ্য নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনাও করেছেন।
কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ লেবাননে চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর বেন গভিরের ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত’ মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইসরাইল সরকারের প্রকৃত অবস্থানকে তুলে ধরে এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহও সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চলমান আলোচনা কতটা এগোবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে ইসরাইল যুদ্ধবিরতির শর্ত ও আন্তর্জাতিক আইন কতটা মেনে চলে তার ওপর। তাঁর মতে, দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। - সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আমার বার্তা /জেএইচ
