রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত চার বছরেরও কম সময়ে তিনি দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী এবং গত এক দশকে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন। স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাজা। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহাম লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন। সেখানে তিনি সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন এবং পরে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।
মাত্র এক মাস আগে উপনির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরে এসেছিলেন সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র বার্নহাম। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের উদ্যোগেই ওই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বার্নহামকে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করার পথ তৈরি করা।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে স্টারমার লেবার পার্টির বহু সংসদ সদস্য ও কয়েকজন মন্ত্রীর আস্থা হারান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নেতৃত্ব ছাড়তে বাধ্য হন।
লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য অন্য কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় বার্নহাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতা নির্বাচিত হন এবং একই সঙ্গে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথও সুগম হয়। ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জনসম্মুখে বিস্তৃত পর্যালোচনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে ঋষি সুনাকও একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তাঁর আগে তিনি লিজ ট্রাসের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং মন্ত্রিসভায় তাঁর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও ছিল।
অ্যান্ডি বার্নহাম এর আগে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৭ সালে তিনি পার্লামেন্ট ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তিনি আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
আমার বার্তা/এমই
