হুথিদের ড্রোন হামলা, গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করলো সৌদি আরব
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হুথি। এরপরই সৌদি আরবের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনব্যবস্থায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এ অবস্থায় ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ নামে ওই তেল পরিবহন মাধ্যমটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাময়িকভাবে এই পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব।
হামলার জন্য কারা দায়ী, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। তবে রপ্তানিতে এর কী প্রভাব পড়েছে, তা জানানো হয়নি।
এদিকে, বাগদাদ ও রিয়াদ দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে, পাইপলাইনে ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছে ইরাক থেকে। সেখানে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। হামলার জেরে শনিবার ইরাকের এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরব উপদ্বীপের ওপর দিয়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জট এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ করে দিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বর্তমানে ওই প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।
ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার সময় এই হামলা হলো। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে হুতিদের তৎপরতা মিলে আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা।
শুক্রবারের পাইপলাইন ও পেরিম দ্বীপে চালানো হামলা যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকার সময়ে পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতি ঘটাতে পারে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছে সৌদি আরব। তবে, সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) শুক্রবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এর একটি কারণ, বাব আল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলা।
