ফিলিস্তিনের পক্ষে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডা, গাজায় ইসরায়েলের সমালোচনা
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ বন্ধ থাকা গোটা বিশ্বের জন্য লজ্জার বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে নিজেদের অবস্থান আবারও জানিয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গাজায় শান্তির কথা বলা হলেও সেখানে এখনো মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ পুরোপুরি চালু হয়নি। প্রায় এক বছর আগে ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এরপরও গাজার পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ম্যাক্রোঁ।
একই দিনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে আয়োজিত একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
বৈঠকে বার্নহাম বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন করা না গেলে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলা রাজনীতিকদের ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
বার্নহাম আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য বন্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ই১ বসতি প্রকল্প দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বাধা তৈরি করছে। এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
বাকি ২০ শতাংশ ব্যয় করা হবে শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও রয়েছে।
কার্নি বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা এখনো ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া, ই১ বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করে ওই বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছেন কার্নি।
ম্যাক্রোঁ পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, এ ধারণা ভুল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। পরে এই তিন দেশসহ আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেয়। তিন দেশের নেতারা বলেছেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। - সূত্র: আল-জাজিরা
