আজ সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস 

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সৌদি আরব তার ৯৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন করছে। প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদ কর্তৃক রাজ্যটির একত্রীকরণ এবং দেশটির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও রূপান্তরের অসাধারণ যাত্রাকে স্মরণ ও উদযাপন করাই এই দিবসের লক্ষ্য। 

এ বছরের জাতীয় দিবসটি "আমাদের প্রকৃতিতেই আমাদের গর্ব" (عزّنا بطبعنا) প্রতিপাদ্য নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে; যা সৌদি সমাজের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও গুণাবলিকে প্রতিফলিত করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়ের প্রতি রাজ্যের আস্থা এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।

এমন এক সময়ে এই জাতীয় দিবসটি পালিত হচ্ছে যখন সৌদি আরব 'সৌদি ভিশন ২০৩০'-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে। এই ভিশনটি এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে (২০২৬-২০৩০ সময়কাল) প্রবেশ করেছে। বর্তমান পর্যায়ে বিগত বছরগুলোর অর্জন সুসংহত করা, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগ জোরদার করা, বেসরকারি খাতকে ক্ষমতায়ন করা এবং টেকসই উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ 'ভিশন ২০৩০ বার্ষিক প্রতিবেদন' অনুযায়ী, ভিশনের মূল কর্মক্ষমতা নির্দেশকগুলোর (KPIs) মধ্যে ৯৩ শতাংশ তাদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে অথবা অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া, মোট ১,২৯০টি উদ্যোগের মধ্যে ৯০ শতাংশই হয় সম্পন্ন হয়েছে অথবা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে; যার মধ্যে ২২৫টি উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯৩৫টি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮.৮৮ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ৭.৫৫ মিলিয়নের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৬ সালে যেখানে তেল-বহির্ভূত রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে তা বেড়ে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে; যা রাজ্যের তেল-বহির্ভূত অর্থনীতির ধারাবাহিক সম্প্রসারণকে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি, 'বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা র‍্যাঙ্কিং ২০২৫'-এ সৌদি আরব বিশ্বের ১৭তম স্থানে উঠে এসেছে, যা 'ভিশন ২০৩০'-এর ৩৯তম স্থানের লক্ষ্যমাত্রাকেও অতিক্রম করেছে।

সামাজিক উন্নয়ন খাতে, ২০২৫ সালে নিজস্ব বাড়ির মালিকানাসম্পন্ন সৌদি নাগরিকদের হার ৬৬.২৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভিশনের নির্ধারিত ৬৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি আরব ওমরাহ পালনের জন্য রাজ্যের বাইরে থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার (১৮.০৩ মিলিয়ন) তীর্থযাত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে, যা ১ কোটি ৫০ লাখের (১৫ মিলিয়ন) বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর ৯৭.৫ শতাংশে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেছে। ‘ভিশন ২০৩০’ শুরুর পর থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে; পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বা অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং সংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সৌদি অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ ২০১৭ সালের ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে; একই সময়ে মধ্য ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার পদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ২০১৭ সালের ২৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিনিয়োগ সৌদি আরবের এই রূপান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) প্রবাহ ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে (SAR) পৌঁছেছে এবং মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের স্থিতি (stock) প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন সৌদি রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। এই অর্জনগুলো রাজ্যজুড়ে চলমান বৃহত্তর রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ, যা পর্যটন, সংস্কৃতি, বিনোদন, ক্রীড়া, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি, শিল্প এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে। বড় বড় জাতীয় প্রকল্প ও উদ্যোগগুলো সৌদি অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ এবং নাগরিক, বাসিন্দা, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।

সৌদি আরব যখন তার ৯৬তম জাতীয় দিবস উদযাপন করছে, তখন এই উপলক্ষটি রাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও পরিচয়ের উদযাপনের পাশাপাশি এর চলমান রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাগুলোকে তুলে ধরার একটি সুযোগও বটে। ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্যগুলোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, রাজ্যটি একটি বৈচিত্র্যময় ও টেকসই অর্থনীতি, প্রাণবন্ত সমাজ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতি গঠনের পথে তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে; একই সাথে অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগের সন্ধান করছে।