কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ই-রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছেন অনেকেই। কেউ ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে, কেউ পেজ মনিটাইজেশন থেকে, আবার কেউ স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ডের প্রচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন। তবে অনলাইনে আয় করলেই কি আয়কর রিটার্ন দিতে হবে? ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কীভাবে ই-রিটার্ন দাখিল করবেন, কোন খাতে আয় দেখাবেন এবং কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে জেনে নিন বিস্তারিত।

ই-রিটার্ন দাখিলের আগে যা জানা জরুরি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর নির্দেশিকা ও ই-রিটার্ন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। সাধারণ নিয়মে ই-রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজন হবে ই-টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

কারা আয়কর রিটার্ন দেবেন?
ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে আয় করলেই সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, এমন নয়। আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ভর করে করযোগ্য আয়, আইনগত শর্ত এবং করদাতার অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর। যাদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাদের নির্ধারিত নিয়মে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের হিসাব কীভাবে রাখবেন?
ই-রিটার্ন দেওয়ার আগে আয় ও খরচের হিসাব গুছিয়ে রাখা জরুরি। যেমন-

ফেসবুক ও ইউটিউবের আয়: বিজ্ঞাপন, মনিটাইজেশন বা প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব রাখুন।
স্পনসরশিপ: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচার বা ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে পাওয়া অর্থের হিসাব রাখুন।
অন্যান্য আয়: ভিডিও তৈরি, কনটেন্ট সম্পাদনা, প্রচারণা কিংবা সংশ্লিষ্ট সেবা দিয়ে আয় করলে তার তথ্য সংরক্ষণ করুন।
লেনদেনের প্রমাণ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্টের বিবরণ, বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তির তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের নথি রাখুন।
আয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী রিটার্নে সঠিক খাত নির্বাচন করতে হবে। সব ধরনের অনলাইন আয়কে যাচাই না করে একই খাতে দেখানো ঠিক নয়।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে ই-রিটার্ন যেভাবে দাখিল করবেন
প্রথমে ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন পোর্টাল etaxnbr.gov.bd (https://etaxnbr.gov.bd/#/landing-page) খুলুন।
আগে নিবন্ধন করা থাকলে নিজের টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
নতুন ব্যবহারকারী হলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। সাধারণত টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।
লগইন করে ‘Return Submission’ বা সংশ্লিষ্ট রিটার্ন জমার অপশনে যান। করবর্ষ ও অন্যান্য প্রযোজ্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
resident status পর্যন্ত যা আছে তাই থাকবে।
tax exempted income-এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যেহেতু দেশের বাইরে থেকে অর্থ আসছে তাই এটা yes দিতে হবে।
এরপর আপনার অন্যান্য আয় থাকলে দেখান নাহলে শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয় হলে no দিয়ে save & drafts করে পরের পেজে যান।
এই পেজে আপনার সম্পদ, গাড়ি, জমি, কোম্পানির শেয়ার থাকলে yes নাহলে no দিন। কিন্তু it10b may not be mandatory. still want to submit? তে yes দিয়ে পরের পেজে যান।
income পেজে যান এবার। এখানে আপনার কোন খাত থেকে আয় তা দেখান। tax exempted income type অপশন পাবেন ফেসবুক-ইউটিউব বা ফ্রিল্যান্সিং হলে foreign remittance সিলেক্ট করুন।
এবার অনেকগুলো অপশন আসবে, আপনার কোথা থেকে আয় হচ্ছে তা দেখান। ব্যাংক স্টেটমেন্টে সব তথ্য দেওয়াই থাকে। সেই অনুযায়ী পূরণ করুন।
একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় হলে add another type ক্লিক করলে আরও পেজ পাবেন, সেখানেও তথ্য দিন। save & drafts করে পরের পেজে যান।
expenditure পেজে এসে চাইলে একসঙ্গে খরচ দেখাতে পারেন। আবার চাইলে এক এক করেও দেখাতে পারেন।
এরপর asset & liabilities পেজ পূরণ করুন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী। এখানে আপনার সম্পদ, ব্যাংকের হিসাব, ডিপিএস, লোনের হিসাব দেখাতে পারবেন।
এরপরের আপনার summary দেখে মিলিয়ে নিন। যেহেতু ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কন্টেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয়ের ওপর থেকে ৭.৫ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। তাই শুধু কনটেন্ট বানিয়ে আয় হলে ট্যাক্স শূণ্য আসবে। আর যদি আপনার অন্যান্য আয়কর হয় এমন আয় থাকে তাহলে ট্যাক্স দিতে হবে।
রিটার্নে দেখানো আয়, প্রযোজ্য কর, উৎসে কর্তিত কর এবং অগ্রিম করের তথ্য মিলিয়ে নিন। অতিরিক্ত কর দিতে হলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিশোধ করুন।
সব তথ্য যাচাই করে রিটার্ন জমা দিন। জমা সম্পন্ন হলে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ, ট্যাক্স সার্টিফিকেট এবং রিটার্নের কপি ডাউনলোড করে রাখুন।


তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ই-রিটার্ন পোর্টাল, এনবিআরের আয়কর