আলিফ হত্যা মামলা : চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিচার শুরু

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

চট্টগ্রামের আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। 

এদিন চিন্ময় দাসসহ মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে মামলার প্রথম ধার্য তারিখ ছিল। এদিন আসামিদের উপস্থিতি ও চার্জগঠনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। যেহেতু মামলার প্রথম তারিখ, তাই নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছিল। সব আসামির উপস্থিতিতে ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠনের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। আদেশের পর তিনি দীর্ঘ সময় এজলাসে অবস্থান করেন এবং পরে অনুসারীদের দ্বারা বেষ্টিত অবস্থায় আদালত ভবনের সামনে থাকা প্রিজন ভ্যানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার অনুসারী ও সমর্থকদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়। এর ফলে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার ঘটনাও ঘটে।

একই অপরাধী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম আদালতের প্রবেশপথে আইনজীবী আলিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র, লাঠি, রড ও পাথর দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। ভুক্তভোগীর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের দুটি গভীর কোপসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট ২৬টি আঘাত করা হয়, পুরো শরীরে কালশিটে দাগ সৃষ্টি করা হয় এবং একটি পা ভেঙে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার তদন্তকালে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ একাধিক অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন গ্রেপ্তার এবং ১৬ জন পলাতক রয়েছেন। 

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় ভুক্তভোগী আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। এতে এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে তদন্তকালে এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে আসামির সংখ্যা বাড়ানো হয়। পরে গত বছরের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
  
আমার বার্তা/এল/এমই