ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

আমার বার্তা অনলাইন
২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অধ্যাদেশের পর তৈরি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম বহাল রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

সাদ্দাম হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের ৭ আইনজীবী রিটটি দায়ের করেছেন। রিটটি আজ সোমবার শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ ৯৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করবেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে এই সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তবর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হবার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বিচার বিভাগীয় ৪৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ১৯ জন কর্মচারী পদায়ন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। অন্য কর্মচারীদের নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বাজেট প্রাপ্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাবতীয় কাজ শেষ। সচিবালয়ের জন্য এরই মধ্যে ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবনের কাজও চলতি এপ্রিল মাসে শেষ হবে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার।

হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই সময় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সবার কাছে আমার আহ্বান রইল—আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা—এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’

সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে

চায়না রাইফেল দিয়ে গুলির নির্দেশ দেননি হাবিবুর রহমান: দাবি আইনজীবীর

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল দিয়ে গুলি করার জন্য ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিবেচনায় আসবে না ধর্ষণ মামলা

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ধর্ষণ মামলা বিবেচনায়ই আসবে না। এ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিউজিল্যান্ডে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বারোপ বিকেএমইএর

দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র: অর্থমন্ত্রী

আমি আপনাদের ভালোবাসার অরূপ হয়েই থাকতে চাই: ডা. অরূপরতন চৌধুরী

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে কোনো টিকা কার্যক্রম হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে প্রাণ গেল সুরুজের, পরিবারে মাতম

আগামী বাজেটের জন্য ধ্রুবতারা হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: দেবপ্রিয়

আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

বোনাস না নিয়ে সভাপতি তামিমের কাছে যা চেয়েছেন শান্তরা

বিদ্যুতে ঘাটতির বড় কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ, পর্যালোচনায় রাজি বিইআরসি

বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করা ঢুলিকে কোচ হিসেবে মানতে চান না সমর্থকরা

বড় মূলধনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে

নির্বাচন কমিশনের কাজে উন্নতি হয়েছে: আনফ্রেলের মূল্যায়ন

কোরবানির আগে চাঙ্গা রেমিট্যান্স, ২০ দিনে এলো ৩২ হাজার কোটি টাকা

সুন্দরবনে “কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনী”র আত্মসমর্পণ

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের

এইচপির দায়িত্ব নিয়ে যে লক্ষ্যের কথা জানালেন সালাউদ্দিন

বিচারহীনতার সংস্কৃতিই রামিসার হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ি: বাংলাদেশ ন্যাপ

কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যেই ডুয়েটে ঢুকলেন নতুন ভিসি

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত সময়ে দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য দলিল ডিজিটালাইজেশন ও ই-বুক চালুর সুপারিশ