বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

বোসরা ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

বিমান সূত্র জানায়, কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান। নতুন এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দেশের আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বহরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজ বিক্রি ও ডেলিভারি-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠায়। পরে ২০ ডিসেম্বর সংশোধিত খসড়া চুক্তি পাঠানো হলে তা পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত মূল্য ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনায় এগিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ড সভায় সদস্যরা বলেন, দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বিমান যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক—উভয় খাতেই বিমানের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই প্রতিশ্রুতির পর ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও তৎপরতা বাড়ায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা কূটনৈতিকভাবে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিক্রির পক্ষে তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই চূড়ান্তভাবে এগিয়ে থাকে।

বিমান সূত্র জানায়, সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হলে বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করবে বোয়িং।


আমার বার্তা/এমই