নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ইসির প্রতি আহ্বান
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রার্থী ও দলগুলোকেও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (এএফইডি) এবং ‘ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি’ (ইপিডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রেহমান, এএফইডি-র মেম্বার সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ এবং খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা খন্দকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরপর থেকে এই সময়কালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ গ্রহণসহ একটি সংস্কার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি বেশ জোরেশোরে চলছে। বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচন আয়োজন করা একটি জটিল কাজ এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, প্রস্তুতি যথাসময়ে সুসম্পন্ন হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাঁদের নিজস্ব প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই নিচ্ছেন। এএফইডি-র নাগরিক পর্যবেক্ষকদের সাথে কথা হওয়া ৯৮ শতাংশেরও বেশি কর্মকর্তা বলেছেন যে, তাঁরা নির্বাচনের দিনের জন্য খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত সহিংসতার মাত্রা কম। এরপরও ভোলা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাচন-সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দলীয় সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবক বা প্রচারকর্মীদের ওপর দাঙ্গা, সংঘর্ষ এবং শারীরিক আক্রমণের ২৫টি প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি।
নির্বাচন কমিশনের দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা সংবেদনশীল এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের দিন ভয় দেখানো এবং হয়রানি, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দেওয়া, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং সংঘর্ষ ও সহিংসতাকে তাঁরা প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেকে আশঙ্কা করছেন যে সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে নির্বাচনের দিন শেষে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে।
সংগঠনটি যেসব সুপারিশ উপস্থাপন করেছে সেগুলো হলো
১. আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের দিনটি যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। যেকোনো কার্যকরী বাধা অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবাধ ও গোপনীয়ভাবে ভোটদানের অধিকার রক্ষা করার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে।
২. আমরা রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিন নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাই। দলের নেতা বা প্রার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। নির্বাচনের দিন এবং তার পরে নিজেদের ও সমর্থকদের আচরণ শান্তিপূর্ণ এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি ও হয়রানিমুক্ত রাখার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
৩. আমরা নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করার এবং নির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে নির্বাচনের ঠিক পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
৪. নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আগে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় করতে আমরা তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
৫. আমরা নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাধীন ও নির্দলীয় থাকার এবং পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
৬. আমরা সকল ভোটার তাদের মতামত প্রকাশের জন্য এবং নিজস্ব বিশ্বাস অনুসারে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
আমার বার্তা/এমই
