র্যাব-ডিজিএফআই বিলুপ্ত চাইলেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) এর বিরুদ্ধে গুম-খুনের মতো অপরাধের অভিযোগ তুলে সংস্থা দুটির বিলুপ্তি চেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ডিজিএফআইয়ের হাতে গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এ দাবি করেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা দরকার। সেটি সম্ভব না হলে র্যাব থেকে সেনাসদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফেরত আনা হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমি আরও চাই, ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করা হোক। কারণ এই সংগঠনটি হত্যার মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার পর ঠিক থাকার বৈধতা হারিয়েছে।’
সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
রোববার তাঁর জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আজ সোমবার তাঁর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আংশিক জেরা হয়েছে। পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে নিহতদের সম্পর্কে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সূত্রে শুনেছি, ওই সময় র্যাব যাদেরকে হত্যা করতো তাদের পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে ইট পাথর বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দিত।’
তিনি বলেন, ‘ওই সময় র্যাবের এসব কর্মকাণ্ড দেখে আমি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে থাকি এবং অফিসারদের এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকতে মোটিভেট করতে শুরু করি। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর যত অফিসার আছে তাদের ঢাকায় এনে জুনিয়র অফিসারদের প্রতি তাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করি। তাদের স্মরণ করিয়ে দিই যে, শেখ মুজিব ও জিয়া হত্যার সাথে জড়িত অনেক সামরিক অফিসারের ফাঁসি হয়ে গেছে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে আরও কিছু অফিসার ফাঁসির দণ্ড নিয়ে হাজত বাস করছেন।’
ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এত কিছুর পরেও যখন বুঝতে পারি ক্রসফায়ার থামছে না তখন আমি ডিজিএফআই, বিজিবি ও র্যাব থেকে অফিসার নিয়ে আসা পোস্টিং বন্ধ করে দিই। তখন আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেয়, আমি যা করছি তা বিদ্রোহের শামিল। আমি মনে করেছি, হাশরের ময়দানে গিয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। পোস্টিং বন্ধ করার প্রতিক্রিয়া ছিল মারাত্মক। আমি প্রতিনিয়ত পোস্টিং করার জন্য টেলিফোন পেয়ে থাকি। এরপর চট্টগ্রাম রেডিসন হোটেল উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের সাথে বৈঠকের সময় আমাকে ডেকে পাঠান এবং র্যাবে অফিসার দিতে বলেন। আমি উনাকে অফিসার স্বল্পতার কারণে র্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত ছিল। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘র্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু না করার বেদনা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আজ সুযোগ এসেছে সেই করতে না পারার কাজটি সম্পন্ন করার।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভাবছেন, আমি সেনাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমার এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা হলো- আমাদের উচিত হবে না আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে কোনো অবস্থাতেই তা হেলায় না হারানো। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুন্ন হবে না বরং সেনাবাহিনী আরও গৌরবের শিখরে আসীন হবে। পুরো জাতি জানবে সেনাবাহিনী কখনও দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না। সেনাবাহিনীর গৌরব ও সম্মান সাইনবোর্ডের আড়ালে সেসব অফিসারের অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ার মানসিকতা দূর হবে। আমি চাই, অবিলম্বে র্যাব বিলুপ্ত করা দরকার। সেটা সম্ভব না হলে তাদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমি আরও চাই, ডিজিএফআই বিলুপ্ত করা হোক। কারণ এই সংগঠনটি আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পর টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।’
আমার বার্তা/এমই
