‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কী হবে, জানালেন আলী রীয়াজ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ। ছবি: বাসস

সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণভোট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই আইনি বিবেচনার চেয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এই রায় বাস্তবায়নের একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে গণভোটে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে যে রায় এসেছে, সেটি আইনগতভাবে মানতে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। তাঁরা দুটি শপথ গ্রহণ করবেন, একটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই পরিষদের মেয়াদ ১৮০ দিন। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এখন একটি জনরায়ে পরিণত হয়েছে এবং জনগণ চায় এগুলো বাস্তবায়ন হোক। আমরা আশা করি, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং অন্যান্য সব দল জনরায়ের এই আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করবেন।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর ওপর ভিত্তি করেই জনরায় এসেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে সব দলেরই একটি প্রাজ্ঞতা আছে এবং তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ। শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থে বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এগুলোর সমাধান হবে।

গণভোটের প্রশ্নে উচ্চকক্ষ ছিল ‘সংখ্যানুপাতিক’, কিন্তু বিজয়ী রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে আছে ‘আসনানুপাতিক’। এক্ষেত্রে তারা ইশতেহার অনুযায়ী চলবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে আসনানুপাতিক ব্যবস্থার কথা বলেছে, এটি তাদের দলীয় অবস্থান। তবে গণভোটে যে রায় এসেছে সেটি ভিন্ন রকম।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি অতীতেও বড় বড় সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৯১ সালে তারা সংসদীয় ব্যবস্থার কথা না বললেও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তাই এবারও তারা জনরায় এবং আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকেই এমন ছিলেন, যারা শুধু গণভোট দিয়েছেন। সংসদ নির্বাচনে ভোট দেননি।’

গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ২৩ জন। ভোটারদের ৬০ শতাংশ গণভোট দিয়েছেন। যা সংসদ নির্বাচনের চেয়েও এক শতাংশ বেশি।

সে প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘না, আমাদের কাছে মোটেও গোলমেলে মনে হচ্ছে না। এর পেছনে ইসি (ইলেকশন কমিশন) থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে হার দেখানো হচ্ছে, সেটি সব আসনের নয়। এখন পর্যন্ত তিনটি আসনের ফলাফল যুক্ত করা হয়েছে। তাই তিনশ আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসলে দেখা যাবে যে ভোটের হার জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাড়বে, যা সম্ভবত গণভোটের হারের প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আমরা দেখেছি অনেকে শুধুমাত্র গণভোটে ভোট দিয়েছেন কিন্তু অন্য নির্বাচনে দেননি। ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশের মতো, যা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই