শিক্ষামন্ত্রী কে? আলোচনায় ওবায়দুল ইসলাম, মিলন ও ওসমান ফারুক

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক:

ওসমান ফারুক, এহছানুল হক মিলন, ওবায়দুল ইসলাম। ছবি আমার বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মন্ত্রিসভার কাঠামো নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে জোরালো আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়—কে হচ্ছেন আগামী দিনের শিক্ষামন্ত্রী? দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরেফিরে আলোচিত হচ্ছে তিনটি নাম—অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং ওসমান ফারুক। অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অবদান এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার সমন্বয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে দলীয় মহল থেকে।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। অতীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাদা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং শিক্ষকদের সংগঠনে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষক অধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় শিক্ষা অঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। যদিও বাগেরহাট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাননি, তবুও টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবারের নির্বাচনে চাঁদপুর-1 (কচুয়া) আসন থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব দক্ষতা থাকায় তাঁকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন সরকার শিক্ষা খাতে দ্রুত সংস্কার, নীতিগত পুনর্বিন্যাস ও কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে চায়। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত জোরদার হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে জয়ী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। অতীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় তিনি এগিয়ে। যদিও দলীয় কঠিন সময়ে এলাকায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে, তবুও প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত এবং নির্বাচনী ফলাফল, শিক্ষা খাতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক অবদান ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সমন্বয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষা খাত বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে—পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষক নিয়োগ, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সামঞ্জস্য আনা। ফলে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর ওপর থাকবে উচ্চ প্রত্যাশা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ ঘিরে এই তিন নামের আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে অব্যাহত থাকবে।

আমার বার্তা/এমই