গুম সংক্রান্ত আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে যা বললেন আইনমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

গুম সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে যেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য আইনটি যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের শিকার আরমানের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গুম হয়েছিলেন তারা আমার স্বজন, ভাই, বোন, আত্মীয়। তারা (বিরোধী দল) এটা নিয়ে হইচই করছেন, তারা আইনটা ভালো করে মনে হয় দেখেননি।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে, সেটা করলে গুমের শিকার সদস্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একইসঙ্গে ১৯৭৩ সালের মানবতাবিরোধী আইনের মধ্যে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার হবে, তদন্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে এদিকে এটা করেছি। আবার গুম আইনে ভিন্ন একটা তদন্তের কথা বলছি। সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের যে কথা বলা হয়েছে, অধ্যাদেশে সেখানে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন যেটা করা হয়েছে, সে আইনটা আমি সময় এলে দেখাব। কিন্তু, এই আইনটা যদি এভাবে রাখা হয়, তাহলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষ অতিরিক্ত হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হবেন।’
তিনি বলেন, ‘আইনে তদন্তের নামে যে সময়টা দেওয়া হয়েছে, সে কারণে আমরা বলেছি বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করেছি। তিনি (ব্যারিস্টার আরমান) হয়তো ছিলেন না। আমরা বলছি, এই দুটি আইনকে আরও বেশি যুগোপযোগী, আরও বেশি জনকল্যাণমুখী, আরও বেশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সংসদের এই সেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তীতে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্টভাবে মিল আনব, যেন অপরাধীরা কোনোভাবে ছাড়া না পায়।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আছেন। তিনি বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে।’
‘আমরা বলেছি, গুমের আইনে যে সাজা প্রস্তাব করা হয়েছে, যে তদন্তের পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, আর আইসিটি অ্যাক্টে গুমের যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে—দুটোর মধ্যে যেন সাংঘর্ষিক কোনো অবস্থা না থাকে। সে কারণে এই আইনগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই করা দরকার। আবার মানবাধিকার কমিশন আইনের তদন্ত সংস্থাকে রেফার করা হয়েছে। সবগুলো আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্য আরমানসহ ভুক্তভোগীরা সদস্য হিসেবে থাকবেন ও মতামত দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
আমার বার্তা/এমই
