মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারবেন: ধর্মমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৫:২৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হবে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেছেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অসাধু দালালদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামার করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ ও ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
ধর্মমন্ত্রী কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চেষ্টা করে আসছেন যেন কোরবানির চামড়ার সঠিক মূল্য পাওয়া যায় এবং মাদরাসাগুলো এ থেকে উপকৃত হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মাদরাসাগুলো যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার না করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেক সময় দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে মানুষ তা ফেলে দিয়েছে বা নষ্ট করেছে। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সেজন্য সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সময় মন্ত্রী কোরবানিদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশু জবাইয়ের সময় যেন সতর্কতার সঙ্গে চামড়া আলাদা করা হয়, যাতে চামড়ার গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে। কারণ চামড়া কাটার সময় অসাবধানতা বা দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে এর মান নষ্ট হয়ে যায় এবং দাম কমে যায়।
কাজী শাহ মোফাজ্জল বলেন, কোরবানির পর দ্রুত চামড়া সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে, বিশেষ করে মাদরাসাগুলোতে পৌঁছে দিতে হবে।
চামড়া সংরক্ষণে ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করেন। পাকিস্তান আমল থেকে গ্রামবাংলায় তারাই কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী জুমার খুতবায় কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে ধর্মমন্ত্রী ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে কীভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে হবে, কত দ্রুত মাদরাসায় পৌঁছে দিতে হবে এবং কীভাবে এর গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব।
এ কাজে কোনো সমস্যা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হটলাইনে যোগাযোগ করার কথাও তিনি জানান। প্রয়োজনে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলেও আশ্বাস দেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
