পহেলা জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন হচ্ছে নবম পে স্কেল: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৫:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে উত্তম উপায়ে তা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ জন্য আগামী বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানা গেছে। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এটি কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি আমরা।’
তিনি বলেন, অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও খারাপ। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে আমাদের। কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটা দেখতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। আগামী ২১ মে বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক ডেকেছে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে গঠিত কমিটি। সূত্রগুলো জানায়, এ বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এ সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁটও হচ্ছে। জানা গেছে, তাদের একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বরাদ্দ হলে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একাংশ বাড়ানো হবে। এরপরের অর্থবছরে বাকি অংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সুবিধা শতভাগ বাড়বে। প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা তাদের বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। বাকি অংশ পরের দুই অর্থবছরে কার্যকর করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছর বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও বাকি সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আর পেনশন দিতে অতিরিক্ত লাগবে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
আমার বার্তা/এমই
