খড়ে ট্রেনের হুইল স্লিপ, এজন্য ট্রেনের বিলম্ব: রেলমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ট্রেন চলাচলের সবকিছু স্মুথলি চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সকাল থেকে আমি যতটা জানি যে তিনটি ট্রেনের সম্ভবত একটু ডিলে হয়েছে। একটা আসতে দেরি করেছে। সেটার হুইল স্লিপ করেছিল।

তিনি বলেন, সেটাও একটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ট্রেন লাইনের উপর প্রচুর খড়, ওটাকে বলা হয় ধানের অবশিষ্ট অংশ। খড় নেড়ে দেয় শুকানোর জন্য। তাতে স্লিপ করেছে ট্রেনের হুইল। পরে আমাদের রিলিফ ট্রেন দিয়ে সেটাকে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই কারণে একটু দুইটা ট্রেন সম্ভবত ডিলে হয়েছে। দুটি বা তিনটি ট্রেন মনে হয়- ২০ মিনিট একটা, এক ঘণ্টা, একটা, আরেকটা মনে হয় দুই ঘণ্টা হয়ে যাবে ডিলে। এছাড়া বাকিগুলো ঠিক আছে।

রোববার (২৪ মে) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে ঈদ যাত্রার ব্যবস্থাপনা দেখতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, যাতায়াত নিশ্চিত করবার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা ৩২ হাজার মানুষকে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। ঈদ উপলক্ষ্যে আরো ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৪ হাজারের মতো যাত্রী যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারি। লক্ষ লক্ষ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো সেইটা একটু চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, যে হারে আমাদের চাহিদা সে হারে আমরা ট্রেনের সংখ্যা, ট্রেনের লাইনের সংখ্যা, লোকোমোটিভ, কোচ এগুলি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি এটা সত্য। যে সব জায়গায় ঝুঁকি আছে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ডিরেল হয়ে যেতে পারে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে এবার আমরা ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা চলমান আছে এবং সবসময় আমরা সতর্ক আছি। আশা করছি যে এখনকার ট্রেন লাইনের যে অবস্থা, তাতে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না। এতটুকু আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের ব্যবস্থাপনায় আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ রেখেছি। 

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন লাইনের উপর খড় নাড়ছে, কিলোমিটার টু কিলোমিটার সেখানে ওটা সরাতে গিয়ে জনগণ ক্রোধ হয়ে আমাদের কর্মচারীদের মারধর করে। এরকম একটা অবস্থা তো আছে। আবার যে সব স্টেশনগুলো সিকিউর না, সেগুলো একেবারে আবদ্ধ করা যায়নি, প্রবেশ অধিকার নিয়ন্ত্রণ করবেন- সেটাও করা যায়নি। 

শেখ রবিউল আলম বলেন, এরকম একটা ব্যবস্থার মধ্যে যা আছে তাই নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি। আমি মনে করছি স্বস্তি হবে। আর পরিবেশের অনেকটা উন্নতি হয়েছে। যাত্রীরা আমাকে বলেছে একেবারে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল। এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে সার্ভিসটা ভালো, পরিবেশটা ভালো, শিডিউলটাও ভালো, ভালো টিকিট বিক্রি হয়েছে। সেখানে কোনো অনিয়ম বা সিন্ডিকেট এরকম হয়নি। সবসময় তদারকি আছে। অনলাইনের ভিত্তিতে যে আগে নক করেছে তাকে আমরা টিকিটটা দিতে সক্ষম হয়েছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রমুখ।