বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অর্থ পরিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমাতে উৎপাদনভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অর্থ পরিশোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যাতে সরকারের আর্থিক দায় কমে।

বুধবার (১৭ জুন) সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আগামী দিনে শুধু চাহিদার জন্য উৎপাদিত হবে না, বিদ্যুতায়নের জন্যেও ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে কৃষি খাত, পরিবহন খাত ও বাসাবাড়ির ইলেকট্রিক কুকার রয়েছে। ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা ৪২ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, আগামী দিনে ডেটা সেন্টারও নতুন একটি খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে। 

তিনি আরও বলেন, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্টে যাওয়া উচিত। যিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে আসছেন, তিনি সচেতনভাবেই আসছেন যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করতে পারলে কোনো টাকা পাবেন না এবং এতে সরকারের কোনো দায় নেই। সরকার ইতোমধ্যে কুইক রেন্টালের চুক্তিগুলো রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এত অন্যায় হয়েছে যে, তার দায় মেটানোটা সহজ কাজ নয়।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, তা শুধু আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে আটকে রাখতে চাই না, আমরা জ্বালানি খাতের সাসটেইনেবিলিটি চাই। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে যদি আমরা ডিজেল আমদানি কমাতে পারি, তাহলে সেটা হবে ক্রেডিট। পরিবহন খাতে ৬৭ ভাগ ডিজেল ব্যবহৃত হয়, সেখানে ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) ব্যবহার করতে পারলে জ্বালানির প্রয়োজন অনেক কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু ফাইন্যান্স নিয়ে কথা বলছি, অথচ বড় একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে প্রতিষ্ঠানে। নেট মিটারিংয়ের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। তাদের কাছে প্রচুর অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ে আছে, কিন্তু অনিয়ম দুর্নীতির কারণে তা জমা নেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সঠিকভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত। পল্লী বিদ্যুৎ আগামী দিনে একটি বড় প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ার নিয়ে এক ধরনের চাপ এ সরকারের ওপর রয়েছে। এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তিতে একটি ব্যাপার থাকতে হবে যে, যদি কোনো কারণে বা দুর্যোগে কোম্পানিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সেখান থেকে চাইলে সরকার বেরিয়ে আসতে পারবে। পাশাপাশি সরকারের উচিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট চুক্তিতে যাওয়া, যাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বহনের কোনো দায় না থাকে।


আমার বার্তা/এমই