মাদক প্রতিরোধে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৮:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে শুধুমাত্র ভয়ভীতি বা নিষেধাজ্ঞামূলক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আউস্ট) আয়োজনে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম. এইচ. খান মিলনায়তনে ‘তরুণদের মাদক প্রতিরোধে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আমরা একটি সুন্দর সমাজ তথা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা এডুকেশনের পাশাপাশি স্কিল, টুলস, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। দরিদ্রতা দূর করতে এ বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ইকবাল মাসুদ।
তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ওভিয়াডো ঘোষণা এবং আচরণ পরিবর্তনের বিজ্ঞানভিত্তিক মডেলের আলোকে কর্মক্ষেত্র ও বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের শাস্তির পরিবর্তে পুনরুদ্ধারভিত্তিক পুনর্বাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান কার্যক্রমের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন ও ‘প্রতিরোধের কার্যকারিতা’ পরীক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। অধিদপ্তর বর্তমানে মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণই তরুণদের সুরক্ষা দিতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ডা. এম এ মোহিত কামাল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে প্রতিকূল শৈশব অভিজ্ঞতা চিহ্নিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই পিপিপি মডেলে আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পাইলটিং করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে আউস্ট-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আশরাফুল হক মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস ও সুস্থ সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা অংশ নেন।
আমার বার্তা/এমই
