শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১১:১১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর খাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা বারনামা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মালয়েশিয়ায় দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় উঠে আসে। বর্তমানে তারেক রহমান দুই দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে অবস্থান করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই নেতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিদেশি শ্রমিক শোষণের ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান কর্মগন্তব্য। এসব শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে ঋণদাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ সামনে আসার পর ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে মালয়েশিয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, মালয়েশিয়ায় চাকরি পাওয়ার আশায় অনেক শ্রমিককে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা নিতে হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে শত শত বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, নিয়োগ এজেন্টদের প্রতিশ্রুত চাকরির বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ফলে তারা অবৈধভাবে কাজ খুঁজতে বাধ্য হন এবং আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, তিনি অবৈধ অবস্থায় থাকা শ্রমিকদের বৈধকরণের বিষয়টি আলোচনায় তুলেছেন। পাশাপাশি সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও অনুরোধ জানিয়েছেন। জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের কল্যাণ রক্ষায় দুই দেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের শোষণ, খারাপ আচরণ এবং কেবল কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত লাভের জন্য তাদের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও সহযোগিতা এখন আর কেবল প্রচলিত খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি এবং বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী করা উচিত। কৃষি এখনও গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও এর বাইরে সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব ক্ষেত্রকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
এর আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহজীকরণ বিষয়ে দুটি নোট বিনিময় (ইওএন) অনুষ্ঠিত হয়। সফরে দুই দেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশ এই সফরের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং এশিয়ার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়া সফর শেষে তারেক রহমান চীনে তিন দিনের সফরে যাবেন। এই সফর অনুষ্ঠিত হবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে।
আমার বার্তা /জেএইচ
