কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১৬:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা সম্পাদিত (এডিট করা) পোস্টের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিজস্ব যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনো ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের মতামতের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয় না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি এক কলেজশিক্ষার্থীকে আটক করার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সাইবার টিম অন্যের আইডি ব্যবহার করে পোস্ট তৈরি ও সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান কোনো পোস্টকে ভুয়া বললেই সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যায় না।

তিনি বলেন, যদি সত্যিই কোনো পোস্ট এডিট করা হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র কখনোই কারও প্রতি অন্যায় করবে না। রাষ্ট্রের নিজস্ব মেকানিজম ও বিশেষজ্ঞ রয়েছে।

যাচাই করে যদি দেখা যায় কোনো স্ক্রিনশট বা পোস্ট ভুয়া, তাহলে সেটির ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার চায় না কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হোক। একই সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হোন বা একজন সাধারণ নারী-রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান। নারীদের বিরুদ্ধে নোংরা ও বিভৎস ভাষা ব্যবহার এই সরকার সহ্য করবে না। এসব বিষয়ে সরকার নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব স্বীকার করলেও তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয় না।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চান না। তবে আলোচনার অগ্রগতি দেখে তাঁর মনে হয়েছে, বিষয়টি দ্রুতই উন্মুক্ত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিকতা ও আগ্রহ দেখা গেছে। সরকার আশা করছে, অতীতে যে সমস্যাগুলোর কারণে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, এটি একটি বাস্তবতা। ফলে আমরা আশাবাদী হওয়ার কারণ দেখতে পাচ্ছি। 



আমার বার্তা/এমই