বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে বিগত সরকার
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এমপি বলেছেন, বিশাল দায়-দেনা নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, এখান থেকে বের হওয়ার পথ হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আযোজিত সংলাপে ১৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম।
মন্ত্রী আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতবদ্ধ। আমরা ট্যাক্স ফ্যাসিলিটি দিয়েছি। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব। এটি করতে পারলে জ্বালানি আমদানি করতে হবে না, যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। যেভাবে বিনিয়োগকারী আসছে আমার বিশ্বাস আমরা করতে পারবো।
তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ে আমার দ্বিতীয় ইনিংস। আমি জেনারেশন প্রাইভেটে দিতে রাজি না। কারণ প্রাইভেট সেক্টর মুনাফা করবে। আর সরকার জেনারেশন করলে মুনাফা ছাড়া সার্ভিস দিতে পারবো। আমরা যদি বিতরণকে প্রাইভেটে দিতাম তাহলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, আমাদের ক্যাবল টিভি অপারেটররা বাড়ি বাড়ি দিয়ে লাইন দিয়ে যদি বিল আদায় করতে পারে রূফটপ পারবে না কেনো। রূফটপ সোলারকে সে রকম সিস্টেমে আনতে পারলে সুবিধা হয়। বলা হচ্ছে ৭ টাকা ইউনিটে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, তাহলে ব্যবহারকারীর খুশি হওয়ার কথা।
সরকার কৃষি জমির বিষয়ে খুবই সচেতন। বিগত সরকার অনেক ইপিজেড করে কৃষি জমি নষ্ট করেছে। অনেক লোকজন এখন বাস্তহারা। তখন কিছু টাকা পেয়েছে, সেই টাকা খরচ করে এখন পথে পথে ঘুরছে। আমরা সৌর বিদ্যুতের বিষয়ে রেলওয়ে, সওজসহ বিভিন্ন সংস্থার পতিত জমি বিবেচনা করছি। আবার প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে এখন কিন্তু সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের নিজে সবজি চাষ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রসঙ্গে বলেন, এখন যেসব বিভ্রাট হচ্ছে তার বড় একটি অংশ টেকনিক্যাল কারণে। অনেক জায়গায় লোড নিতে পারছে। কোথায় কখন ট্রিপ করে যায় দোষ হয় মন্ত্রীর। কয়েকদিন আগে যে লোডশেডিং হয়েছে দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে হয়েছে। প্রাইভেট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মনিটরিং করার কোন ব্যবস্থা ছিল না। আমি বলেছি মন্ত্রণালয়ের একটি টেকনিক্যাল টিম থাকবে। একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে এসে রিপোর্ট দেবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষন করা হচ্ছে কি-না। এটা নিশ্চিত করা গেলে যখন-তখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে না। আবার কিছু এলাকায় বিতরণের সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ জন্য সময়ের প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকার অনেক দায়-দেনায় ফেলে রেখে গেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কোন প্রকল্প নেওযা হয়নি, নেওয়া হয়েছে ব্যবসাকে লক্ষ্য করে। ঢাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল প্রকল্প, পল্লী বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার প্রকল্প আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি। আড়াই লাখ মিটার কেনা হয়েছে আর স্থাপন করা হয়েছে মাত্র ৬৭টি।
মন্ত্রী বলেন, ইরান সংকটের সময়ে আমরা শুধু তেল রেশনিং করেছিলাম। বলেছিলাম বাইকে যেহেতু দিনে ৫০০ টাকার তেল ব্যবহৃত হয় না, আর প্রাইভেট কারে ২০০০ টাকার বেশি হয় না। কিন্তু কি দেখলাম লম্বা লাইন, আমার বাসার পাশে দুটি পাম্প থাকায় সারারাত ধরে দেখলাম লাইন। ওই হুজুকের কারণে বাড়তি দাম দিয়ে তেল কিনতে হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ হয়েছে। এখন আমরা মজুত ৩ মাস নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।
ক্যাব উত্থাপিত ১৮ দফা সুপারিশ বিবেচনায় করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাদের মতামত প্রচ্ছন্নভাবে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে থাকবে।
আমার বার্তা/এমই
