স্বচ্ছ কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেট বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ কার্যক্রমে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও অপসারণ কার্যক্রমের সঠিক হিসাব, যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি।

প্যারিস চুক্তির আওতায় আর্টিকেল-৬ ডিজাইনেটেড ন্যাশনাল অথরিটি (এ৬ ডিএনএ) হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশিপ ফর মার্কেট ইমপ্লিমেন্টেশন (পিএমআই) কর্মসূচির সহযোগিতায় বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে সীমিত আকারে কার্বন ট্রেডিং শুরু হলেও সরকারিভাবে এখনো তা চালু করা যায়নি। যত দ্রুত সম্ভব সরকারিভাবে কার্বন ট্রেডিং শুরু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেনি। দ্রুত এ বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অনুমোদন, হিসাবরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং মুনাফা বণ্টনের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া উপস্থাপন করেন।

এতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ ছাড়া সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।


আমার বার্তা/এমই