২০২৯ সালের মধ্যে হালাল বাজার প্রায় ৩. ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে
মালয়েশিয়া হাইকমিশনার
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
রানা এস এম সোহেল:

ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা উথমান বলেছেন, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও গুণমান ও নিরাপদ পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের বাড়তি আগ্রহ এ বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীতে ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল: স্ট্রেংদেনিং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মার্কেট লিংকেজেস অ্যান্ড লিভারেজিং বাংলাদেশ’স হালাল ইন্ডাস্ট্রি ফর গ্লোবাল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাজধানীর এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ, বিডা, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে মালয়েশিয়া হাইকমিশনার বাংলাদেশের হালাল শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি এ খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শুহাদা উথমান বলেন, হালাল এখন শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, পর্যটন ও আতিথেয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন, পোশাকসহ বিস্তৃত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। গুণমান, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি, নৈতিকতা ও আস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া ভোক্তাদের সংখ্যা বাড়ায় হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জন্য এ বিশাল বাজার বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শুধু হালাল অর্থনীতিতে অংশ নেওয়া নয়, বরং ব্যবসা ও শিল্পকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এ কারণেই ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ।
মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সফল হালাল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু সনদ যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী সরকারি নীতি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে শুহাদা ওসমান বলেন, বৃহৎ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, গতিশীল বেসরকারি খাত ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের হালাল শিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সনদ ও মান নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবাকে শুধু মালয়েশিয়ার বাজারে নয়, বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। একইভাবে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোরও বাংলাদেশকে শুধু ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার হিসেবে দেখলে হবে না; বরং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির জন্য পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত।
মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেসে (মিহাস) বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় মিহাস অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যে সহায়তা ও প্রণোদনা দিচ্ছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
শুহাদা ওথমান বলেন, মিহাস ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হালাল ব্যবসা, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য এটি পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও পরিবেশক খোঁজা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, অংশীদারত্ব তৈরি এবং বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা, যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরি হবে। হালাল শিল্প দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
