জনগণের হাসি কি ম্লান হতে শুরু করেছে
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
এস এম মাসুদ রানা:

এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজত্ব ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু সময়কাল ও ঘটনা ছাড়া অটোম্যান শাসকরা সুশাসন, ন্যায় বিচার, প্রজ্ঞা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে শত শত বছর সাম্রাজ্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণ বিষ্ময়কর ছিল। এ বংশের বিখ্যাত দশম শাসক মহামতি সুলতান সুলেমান নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয়ে আছেন। তখন উজির এ আযম ছিলেন সুলতানের ছেলেবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত ইব্রাহিম পাশা। পদাধিকার বলে তিনি অন্য পাশা তো বটেই এমনকি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত অন্য প্রদেশ বা রাজ্যের প্রধানের উপরে ছিলেন । এক যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি হিসাবে তার ব্যর্থতার কারণ হিসাবে সুলতানের নিকট নানা অভিযোগ করছিলেন আরেক পাশা ও অন্যতম সেনাপতি । বিচক্ষণ সুলতান চাটুকারিতায় প্রভাবিত না হয়ে তাকে ভর্ৎসনা করে বললেন যে, আপনি নিজেকে আলাদা ভাবলেন কেন? সঠিক পরামর্শ দিয়ে তাকে সাহায্য করা আপনার দায়িত্ব ছিল।
এ বংশের আরেক বিখ্যাত শাসক সুলতান আহমেত অতি অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেন। শাসনকার্যে অনভিজ্ঞ হলেও তার অধীনস্থ পাশাগণ সঠিক পরামর্শ ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করতেন। ক্রমে দক্ষ এ সুলতান পরবর্তীতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার এর প্রশ্নে তার সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত পাশাকেও মৃত্যুদন্ড দিতে কুন্ঠা বোধ করেন নি।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব হিসাবে অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহন করেন সিরাজ উদ্দৌলা। তার অধীনস্থ প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খাঁ নবাব আলিবর্দি খানের আস্থাভাজন ছিলেন ও তৎকালীন সময়ে সমর বিদ্যায় অদ্বিতীয় ছিলেন। অন্যান্য সেনাপতি সহ সিরাজের একটি সুসজ্জিত ও চৌকস সেনাবাহিনী ছিল। সিরাজ নিজেও যুদ্ধবিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন । রাজ্যের অন্যান্য অমাত্যগণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব দায়িত্বে যথার্থই ছিলেন। অধিকন্তু সম্পদ ও প্রাচুর্যে এ অঞ্চল তৎকালীন সময়ে বিশ্বে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধ ছিল। নিন্দুকেরা নবাবকে অর্বাচীন, নাবালক ও নানান কটুকথা বললেও বাংলার আকাশে যে দুর্যোগের ঘনঘটা, এটা তিনি ঠিকই আঁচ করেছিলেন। এতদসত্ত্বেও দূর্নীতি, ক্ষমতার লোভ, দেশপ্রেম হীনতা ও নবাবের প্রতি আনুগত্যের অভাবে সিরাজের পতন হয়েছিল ।
শৈশবে পিতৃহীন হয়ে সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেন সমসাময়িককালে সবচেয়ে কাঙখিত নেতা তারেক রহমান । তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এমনটি দেখার জন্য জাতি মুখিয়ে আছে। স্যাকরার হাতে আগুনে পুড়ে সোনা যেমনি খাঁটি হয়ে ওঠে, নানা ঘাত প্রতিঘাত, ত্যাগ ও দীর্ঘকাল নির্বাসনে কাটিয়ে তিনি উপযুক্ত ও পরিপক্ব নেতা হিসাবে দেশে ফিরে এসেছেন বলেই বিশ্বাস করেন চাতক পাখির মত চেয়ে থাকা এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ । তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই পবিভিন্ন বদলি ও নানা পদায়ন, দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের নানা সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ ও চাকুরিচ্যুতি, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে দানব বনে যাওয়া পুলিশের স্বরূপে প্রত্যাবর্তন আবারও বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা কিনা তা ভেবে সাধারণ জনগণের হাসিটা কিঞ্চিৎ ম্লান হতে শুরু করেছে।
আমার বার্তা/এমই
