নতুন সরকারের এক মাস: চমক ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
রানা বর্তমান:

বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন অতিক্রান্ত হলো। গত এক মাসে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জনতুষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে দীর্ঘমেয়াদী জনকল্যাণমূলক কাজের যে সূচনা দেখা গেছে, তা নাগরিক মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নতুন সরকারের গত এক মাসের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গৃহীত সমন্বিত পদক্ষেপ। দেশব্যাপী নদীখাল খনন এবং ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রবর্তন সামাজিক নিরাপত্তা ও মেধা বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
প্রশাসনিক সংস্কারে এই সরকার যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারি অফিস সকাল ৯টায় শুরু করার বাধ্যবাধকতা এবং মন্ত্রীদের প্রটোকল ছাড়া সাধারণ মানুষের মতো চলাচলের সিদ্ধান্তটি ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ভেঙে জনগণের সেবক হওয়ার প্রকৃত প্রতিফলন। এছাড়া, সরকারি চাকরিতে কর্মরত মুসলিমদের জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করা এবং ধর্মীয় প্রচার-প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ঈদের বিশেষ বোনাস ঘোষণা বর্তমান সরকারের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার বহিঃপ্রকাশ।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে এক মাসের মধ্যে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও শুল্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানি রাখা সরকারের অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। তবে এই শুরুর সফলতা যেন কোনোভাবেই সাময়িক উচ্ছ্বাসে রূপ না নেয়। প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে স্থায়ী রূপ দেওয়া এখন সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। বিশেষ করে শিক্ষা ঋণ বা ফ্যামিলিকার্ডের মতো প্রকল্পগুলোতে যাতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা দুর্নীতি না ঘটে, সেদিকে কড়া নজরদারি প্রয়োজন। জনগণ কেবল একটি নতুন সরকার নয়, একটি নতুন 'সিস্টেম' চেয়েছিল। গত এক মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সিস্টেম পরিবর্তনের যে রোডম্যাপ দেখিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এই জনবান্ধব ও সংস্কারমুখী শাসনধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
সবশেষে বলা যায়, গত ৩০ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যে গতি ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। জনমনে আজ এই বিশ্বাস দৃঢ় হচ্ছে যে, এভাবে যদি আগামী ৫ বছর সুশৃঙ্খলভাবে দেশ পরিচালনা করা যায়, তবে বাংলাদেশ অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়াটা অসম্ভব নয়। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, এটাই আজকের দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।"
লেখক : লেখক ও নৃাটনির্মাতা।
আমার বার্তা/রানা বর্তমান/এমই
