কার্ডের সুবিধার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মিরপুরে জামায়াত আমিরের জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জনগণকে কার্ড দিয়ে সুবিধা দেওয়া হোক, আমরাও চাই। কিন্তু কার্ড পৌঁছাতে ঘুষ-চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে— এ ধরনের পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। যদি সত্যিই জনগণকে সুবিধা দেওয়ার মনোভাব থাকে, তাহলে এসব সুযোগ-সুবিধা বিনা বাধায় জনগণের কাছে পৌঁছানো উচিত।’

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বরে আদর্শ স্কুল মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ। 

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কোনো কৌশল বা বিকল্প কার্যকর হবে না। তাই নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে এবং সব দলকে সমান আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে।’

তিনি হুঁশিয়ার করেন, ‘কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি— আমরা এখনো মাঠে নামি নাই। কারণ আমরা নির্বাচনের জন্য নামছি। আমাদের আন্দোলনের দিকে নামতে বাধ্য করবেন না।’

নাহিদ বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই শুরু করেছিলেন। আজ সেই লড়াই সার্বভৌমত্বের লড়াই হিসেবে ছড়িয়ে গেছে। আমাদের জাতীয় লড়াই শেষ হয়নি। আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিস্ট শক্তি এখনো ষড়যন্ত্র করছে। ফলে আমাদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও কুপ্রচেষ্টা চলছে। তাই জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

নাহিদ বলেন, ‘১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে জনজোয়ার সৃষ্টি করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটে ঐক্যজোটের বিপুল জয়ের মাধ্যমে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরে যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলাম—সেটা অনেকাংশেই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। এবারের নির্বাচনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করব।’

এনসিপি নেতা বলেন, ‘যারা ঋণ খেলাপী, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না—এটা জনগণের স্বার্থে। তারা সংসদে গেলে আবারও ঋণ নেবে, টাকা লুটবে, পাচার করবে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই না। আমরা তো এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান করেছি। পরে নতুন কোনো লুটেরাদের আমরা ক্ষমতায় যেতে দেব না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ক্ষমতায় যেতে দেবে না।’

বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনার আশঙ্কার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায় না, তারা নিরাপদ জীবন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান চায়। যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে, তাদের বস্তি উচ্ছেদ পরিকল্পনা আছে— এ ধরনের প্রতারণা জনগণ বুঝে গেছে। বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাটের নাম করে উচ্ছেদ করে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রকৃত উন্নয়নমূলক কাজের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। এবারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নয়, দেশ বদলের নির্বাচন। ক্ষমতা বদলের নয়, কাঠামো বদলের নির্বাচন। এর সঙ্গে গণভোটও আছে।’

নাহিদ আরও বলেন, ‘গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ দেব, ইনআশাল্লাহ ১০ দলীয় ঐক্যজোট জয়ী হবে। গণভোটে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতিবাজ, বৈষম্য ও আধিপত্যকে ‘না’ বলে ইনসাফের পক্ষে ভোট দিতে হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’


আমার বার্তা/এমই