প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ হয় তো আমাদের যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে তাদের নিয়ে কথা বলতে পারতাম। কিন্তু তাতে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণের লাভ তখনই হবে যখন আমরা পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারব। জনগণের লাভ হবে যখন আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে পারব।
দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে এসে বলেছিলাম দেশের মানুষের জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সেগুলো হলো, দেশের যে নারী সমাজ রয়েছে, যারা খেটে-খাওয়া মানুষ তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন গৃহিণী অল্প হলেও কিছু সহযোগিতা পাবে। কেউ কেউ বলছেন, এই অল্প সহযোগিতা দিয়ে কী সংসার চলবে? আমরাও জানি চলবে না। এক মাসের চার সপ্তাহ, অন্তত এক সপ্তাহ যদি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে পারি সেটিও অনেক মানুষের জন্য অনেক বড় সুবিধা। গৃহিণীদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তেমনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।
ফেনীবাসীর চাহিদা কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা মেডিকেল কলেজ করব, কিন্তু গ্রামের মানুষ যেন চিকিৎসা সুবিধা পায় সেজন্য সারা দেশে হেলথকেয়ার করতে চাই। যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। তাদের কষ্ট করে বড় কোনো অসুখ-বিসুখ না হলে হাসপাতালে আসতে হবে না। ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মানুষের এলাকার উন্নয়নে যেমন দাবি আছে, তেমনি বিএনপিরও আপনাদের কাছে একটি দাবি আছে। ধানের শীষকে জয়যুক্ত করাই সেই দাবি। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। যা বলব চেষ্টা করব বাস্তবায়ন করার জন্য। জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস।
সারাদেশে খাল খনন করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এক বছর আগে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদি পশুর ক্ষতি হয়েছে। আমরা সারা দেশে এজন্য খাল খনন করতে চাই। খাল খনন করলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। ঠিক একইভাবে আরেকটি পরিকল্পনা হলো সমাজের বহু তরুণ ও যুবক আছে যাদের চাকরি-বাকরি বা কর্মসংস্থান নেই। আমরা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামে যেভাবে ইপিজেড হয়েছে, ফেনী অঞ্চলেও আমরা এমন নিয়ে আসতে চাই। তাহলে এই এলাকার মানুষ সেসব ফ্যাক্টরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের এ এলাকার অনেক মানুষ বিদেশে যায়। তাদের যদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা দেওয়া যায় তাহলে আরও ভালো বেতনের ব্যবস্থা করা যায়। এজন্য আমরা চাই তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে বিদেশে পাঠাতে। এতে তাদেরও লাভ হবে, দেশেরও লাভ হবে। কারণ সে তখন যেভাবে ভালো বেতন পাবে, একইভাবে দেশের জন্য বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে। এজন্য আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও ধানের শীষে সমর্থন লাগবে। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ বিজয়ী হলেই যেসব পরিকল্পনার কথা বলেছি তা বাস্তবায়ন করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের মানুষ সাক্ষী আছে, কীভাবে গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ একটি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।
জনসভায় বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
আমার বার্তা/এমই
