শরিয়াহ প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: ফয়জুল করীম
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক বিষয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে পথে না গিয়ে ২৫৯ আসনে এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম বলেছেন, আদর্শিক কারণেই ১১ দলীয় জোট থেকে সরে এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাঁর দাবি, জোটের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী হুকুমত কায়েম করা এবং শরিয়াহভিত্তিক আইন বাস্তবায়ন। কিন্তু জোটের শরিকদের একটি অংশ ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় ঐক্য সম্ভব হয়নি।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন জনগণকে ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সে অবস্থান থেকে সরে এলে তা মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। তাই দলটি এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষের পরামর্শ বা আসন বণ্টন–সংক্রান্ত বিষয় এই সিদ্ধান্তের পেছনে নেই; এটি সম্পূর্ণ আদর্শিক সিদ্ধান্ত।
ইসলামী আন্দোলনের এই অবস্থানের ফলে ইসলামপন্থিরা দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন ধারণা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, বরং এতে প্রকৃত ইসলামপন্থিরা আরও শক্তিশালী হবে। যারা ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়ায়, তারাই দুর্বল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইনের পরিবর্তে প্রচলিত আইনের আওতায় দেশ পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে—এ প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, এটি জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। তাঁর মতে, এ অবস্থানের কারণে জামায়াতকে আর পূর্ণাঙ্গ ইসলামপন্থি দল বলা যায় না।
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন হলে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে—এমন আশঙ্কাকে তিনি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শরিয়াহ আইন একটি ন্যায়ভিত্তিক আইনব্যবস্থা, যেখানে সব ধর্মের মানুষের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে এবং বিচারের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
নারীদের কাজ ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে কোনো নারী বাধ্য হয়ে কাজ করবেন না। প্রয়োজনে রাষ্ট্র অসহায়, বিধবা ও বেকার নারীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে। তবে কেউ কাজ করতে চাইলে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
পর্দা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু নারীর জন্য নয়; পুরুষের জন্যও ফরজ। উভয়কেই ইসলামী বিধান মেনে চলার আহ্বান জানানো হবে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে বিএনপিকে জনসমর্থনের দিক থেকে শক্তিশালী মনে করলেও আদর্শিকভাবে দলটিকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশ ও ইসলামের কল্যাণ নিশ্চিত হলে শর্তসাপেক্ষে যেকোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বিবেচনায় আসতে পারে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ভালো ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে কোনো ধরনের আধিপত্য বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখার কথা জানান তিনি।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, একটি পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফল যাই হোক তা মেনে নেওয়ার কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বর্জনের পথেও যেতে পারে দলটি।
২৫৯ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সব আসনেই জয়লাভের চেষ্টা করবে। যেসব আসনে প্রার্থী নেই, সেখানে ইসলামের আলোকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে—এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে। - সূত্র : কালবেলা
আমার বার্তা/জেইচ
