ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা আব্বাসের
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে সশরীরে এগিয়ে আসতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ এবং বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “বিএনপি আন্দোলন করছে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে। আমাদের জোট ও সহযোগী দল থাকলেও বিএনপির শক্তিকে ভয় পেয়ে কিছু দল আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে। গত ১৭ বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকলেও নেতাকর্মীরা শান্তিতে থাকতে পারেনি; এ সময় প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে। এত কিছুর পর যখন নির্বাচন সামনে এলো, তখন আবার বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”
দলের নেতৃত্ব ও ঐক্য এবং বিএনপির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দল আজ শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিকূল সময়েও আমাদের দলে কখনো নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই শূন্যতা কখনোই বুঝতে দেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও খালেদা জিয়ার মতো তারেক রহমানও দেশের জন্য অবদান রাখবেন; আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। আমরা নেতাকর্মীরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “শুধুমাত্র চাকরিকে বড় সমাধান মনে করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চাকরির বাইরে যেসব সৃজনশীল কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়, সেগুলো আমাদের শিখতে হবে। আজ আমি একটি ফ্রিল্যান্সিং কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখানে তরুণদের উৎসাহ দেখে আমি আনন্দিত। ফ্রিল্যান্সিং করে বাংলাদেশে এখন খুব ভালো আয় করা সম্ভব।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “চাকরির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে নিজেকে এমনভাবে তৈরি করো, যেন ভবিষ্যতে তুমি আরও ১০০ জনকে চাকরি দিতে পারো। নিজের কৌশল ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হও।”
পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম পেশা পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “মাঝেমধ্যে আমার খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার ব্যাংকে চাকরি করতে চান। আমি তাদের বলি— ভাই, তুমি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে নিজের শিক্ষাকে জাতির কাজে লাগাও, ডাক্তার হয়ে রোগীর সেবা করো। নিজেকে পরিবার ও দেশের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। দেশ চালানোর জন্য অবশ্যই যোগ্য লোক দরকার, তবে সেখানে আমাদের যথাযথ দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন থাকতে হবে।”
আমার বার্তা/এমই
