অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন, সিইসি’র কাছে তথ্য চায় বিএনপি
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন আসনে অস্বাভাবিক ‘ভোটার মাইগ্রেশন’ এবং একটি বিশেষ দলের পক্ষে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “গত এক-দেড় বছরের মধ্যে বিশেষ কিছু এলাকায় বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ইসি জানিয়েছে কোনও আসনেই ২-৩ হাজারের বেশি মাইগ্রেশন হয়নি। কিন্তু আমরা এই তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় একটি হোল্ডিং নাম্বারে যেখানে ৫ জন থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার করা হয়েছে।” তিনি এই মাইগ্রেশনের সঠিক ও আসনভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।
আচরণবিধি ও ধর্মীয় আবেগের ব্যবহার
আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি চিত্র তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “কোনও কোনও এলাকায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে আহত করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে যে কবরে ফেরেশতারা তিনটি প্রশ্নের বদলে চারটি প্রশ্ন করবেন; চতুর্থ প্রশ্ন হবে—অমুক প্রতীকে ভোট দিয়েছো কিনা? এটি হাস্যকর এবং চরম দুর্ভাগ্যজনক। মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শান্তি কমিটি ও বহিরাগতদের উপস্থিতি
নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনও কোনও দল ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের পরিকল্পনা করছে— এমন খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “শান্তি কমিটি শব্দটিই আমাদের কাছে একটি অপ্রীতিকর স্মৃতি। ইসি আমাদের জানিয়েছে এ ধরনের কমিটির কোনও সিদ্ধান্ত তাদের নেই।” এছাড়া নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি এলাকার বাইরের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা চেয়েছে বিএনপি।
বিএনসিসি নিয়ে আপত্তি
নির্বাচন পরিচালনায় বিএনসিসি ক্যাডেটদের যুক্ত করার আলোচনার বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ছাত্রদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এতে তারা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। বিএনসিসি আসলে পরে স্কাউট বা গার্লস গাইডদের কথা আসবে। আমরা বলেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনে যাদের উল্লেখ আছে, তাদেরই রাখা উচিত।” ইসি এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে তিনি জানান।
পর্যবেক্ষকদের সক্ষমতা
৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষককে অনুমোদনের বিষয়ে ইসিকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠানকেও বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের সক্ষমতা আছে তাদেরই এই সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে নির্বাচনি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
আমার বার্তা/এমই
