এবার দেশ গড়ার পালা— ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: তারেক রহমান

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দেশি–বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।” তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিজয় শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দলীয় নেতা–কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

তারেক রহমান দলের নেতা-কর্মীসহ সবার প্রতি তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।

ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত...প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে’, যোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ভোটের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদশকে একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি।

তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা আশা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডম জাহিদ হোসেন। 

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেল ও চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টিতে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম–২ ও চট্টগ্রাম–৪ আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। দলটির শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।


আমার বার্তা/এমই